সম্পাদকীয়

মানহীন পণ্য বাজারজাত কঠোরভাবে দমন করুন

মান নিয়ন্ত্রণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মূল দায়িত্ব হচ্ছে দেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্য, বৈদ্যুতিক ও প্রকৌশল পণ্য এবং খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়া ও পরীক্ষণ পদ্ধতির জাতীয় মান প্রণয়ন। প্রণীত মানের ভিত্তিতে পণ্যমাসগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষণ-বিশ্লেষণ এবং পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধান করা। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। প্রায়ই মানহীন পণ্যের লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিত করেছে বিএসটিআই। কিন্তু তা সত্ত্বেও পণ্য উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্বশীল হচ্ছে না।
ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান নয়, মানহীন পণ্য বাজার করার তালিকায় রয়েছে এমন সব খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানÑবিক্রেতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে যেগুলোর পণ্য কেনেন ভোক্তারা। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নি¤œমানের পণ্য: প্রাণ ঘি, রাঁধুনী ধনিয়া ও জিরা গুঁড়ার লাইসেন্স স্থগিত’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিঃসন্দেহে ভোক্তাদের আস্থায় চিড় ধরাবে। কারণ পরীক্ষণে নি¤œমানের পণ্য প্রমাণ হওয়ায় উৎপাদন লাইসেন্স স্থগিত হয়েছে দেশসেরা ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রাণ, স্কয়ার, পারটেক্স স্টার, ওয়েল, এসিআই টিকে, সিটি ও সজীব গ্রুপের।
খবরে জানা যায়, লাইসেন্স বাতিল পণ্য বিক্রি-বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাতিল পণ্যগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নিতে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিএসটিআইর নির্দেশনা মেনে চলবে। মানহীন এসব পণ্য ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ অফারসহ বিভিন্ন প্রচারণায় বিক্রি হতে পারে। তাই ভোক্তাসাধারণকে সচেতন হতে হবে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও কনজুমারর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (ক্যাব) ভূমিকা রাখতে হবে। দুঃখের বিষয় মানহীন পণ্যের মধ্যে সুপার ব্র্যান্ড হিসেবে পুরস্কার পাওয়া কয়েকটি ব্র্যান্ডও রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা গেল, খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের বাজারজাত পণ্যও নির্ভরযোগ্য নয়। আমরা চাইব, বাজারজাতকালে যেমন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, মানহীন পণ্য বাজারজাত করার জন্য ভোক্তা তথা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে পণ্য প্রত্যাহার করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ধনাঢ্য, করদাতা ও দান-অনুদান দাতা হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা ও স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন, সামাজিক মর্যাদাও ভোগ করেন। তাদের তিরস্কার করা কিংবা আইনের আওতায় আনা ততটা সহজ নয়। তাদের সিন্ডিকেটও রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা পণ্যের দামও বাড়িয়ে ফেলেন। আমরা চাইব, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এসব ব্যবসায়ী ভোক্তাদের ঠকানোর পথ পরিহার করে বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় উপযোগী পণ্য বাজারজাত করবেন। পণ্য মানসম্পন্ন হলে রফতানিও বাড়বে।

সর্বশেষ..