হোম সম্পাদকীয় মানের সঙ্গে ওজন নিশ্চিত করাও জরুরি

মানের সঙ্গে ওজন নিশ্চিত করাও জরুরি


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

দেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লোগোযুক্ত বাটখারা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকালের শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ হয়েছে। এটি ভোক্তাসাধারণের জন্য আশাব্যঞ্জক। বাজারে পণ্যের মানই নয়, ওজনও গুরুত্বপূর্ণ। মান ভালো হলেও ওজনে কম পেলে গ্রাহক প্রতারিত হন। তার অধিকার রয়েছে ঘোষিত মান ও ওজনের পণ্য পাওয়ার, যার জন্য তারা কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করেন।

নির্দিষ্ট লোগোযুক্ত বাটখারা ব্যবহারের পাশাপাশি দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য মিটার পদ্ধতি চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। এরপর থেকে বিএসটিআইয়ের লোগোবিহীন বাটখারা কিংবা মিটারের পরিবর্তে অন্য কোনো পরিমাপক ব্যবহার করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

ওজনে কম দেওয়ার সংস্কৃতি কেবল আমাদের দেশে রয়েছে, তা কিন্তু নয়। গত বছর মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে আমদানি করা ইউরিয়া সারের বস্তায় নির্দিষ্ট ওজনের চেয়ে কম পাওয়া গেছে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি সার থাকার কথা থাকলেও ছিল ৪২ থেকে ৫০ কেজি। সারগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে আমদানি করেছিল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

পরিমাপে হেরফের করে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ এদেশে পুরোনো। এটা শুধু অসাধু ব্যবসায়ী বা কারখানা মালিকরা করেন, তা নয়। সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পরিমাপে গরমিল লক্ষ করা যায়। শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কিংবা দুর্গতদের ত্রাণ হিসেবে দেওয়া খাদ্যপণ্যে প্রায়ই নির্দিষ্ট পরিমাপের চেয়ে কম পাওয়া যায়। গত বুধবার কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) একটি চালানে ৩০ টন চালের মধ্যে সাড়ে ৯ টন কম পাওয়া গেছে। প্রতি বস্তায় চাল থাকার কথা ৩০ কেজি। বাস্তবে কোনো বস্তায় পাওয়া গেল ১২, ১৪ কিংবা ২০ কেজি। দেখা গেছে, গুদামে দুটি ওজন মাপা মেশিন (স্কেল) আছে। একটি আধুনিক, অন্যটি পুরোনো ও নষ্ট। কাউকে দেওয়ার সময় পুরোনোটায় মেপে দেওয়া হয় আর গ্রহণের সময় মেপে নেওয়া হয় আধুনিক মেশিনে।

প্যাকেটজাত পণ্যেও ঘোষিত ওজনের কম পাওয়া যায় অনেক ক্ষেত্রে। তদন্ত বা অভিযান পরিচালিত হলে তা বেরিয়ে আসে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, সঠিক মাপেই প্যাকেট করা হয়। পরে শুকিয়ে যায় বলে ওজনে কম হয়। কেনার সময় কিন্তু প্যাকেটে মুদ্রিত ওজনের দামই দিতে হচ্ছে ক্রেতাকে। আরেকটি বিষয়, বাটখারায় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার লোগো থাকলেই সঠিক মাপে পণ্য পাবে গ্রাহক, তার নিশ্চয়তা নেই। দাঁড়িপাল্লায় একটু এদিক-সেদিক হলেও মাপ ঠিক হয় না। এক্ষেত্রে বিক্রেতার সততা গুরুত্বপূর্ণ। সেটি খুব সুলভ নয়। এদিকে গ্রাম পর্যন্ত প্যাকেটজাত পণ্য কিনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষও। সেক্ষেত্রে পণ্যের মানের সঙ্গে ওজনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজে থেকে এগিয়ে আসবে, এটাই কাম্য। পাইকারি বাজারেও যেন যথানিয়মে পণ্য মেপে দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।