মান রক্ষা করে আন্তর্জাতিক হোক সৈয়দপুর বিমানবন্দর

আকাশপথে রংপুর বিভাগের প্রবেশদ্বার নীলফামারীর ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিককরণের কাজ শুরু’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা আশাব্যঞ্জক। এর বাস্তবায়ন হলে শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী বিমানবন্দরের পর এটি হবে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এতে উত্তরা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, স্থলবন্দর ও দেশের বৃহত্তম রেল কারখানা আরও কর্মমুখর হবে। উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এক সময়ের দরিদ্র, এমনকি মঙ্গাপীড়িত বিস্তীর্ণ এ জনপদে। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক হলে অনেকটাই বদলে যাবে এর অর্থনৈতিক দৃশ্যপট।
এ অঞ্চলে দর্শনীয় কিছু স্থান ও স্থাপনা থাকায় বিদেশি পর্যটকরাও নিয়মিত চলাচল করেন এ বিমানবন্দর দিয়ে। ভারত, ভুটান, নেপালের সঙ্গেও আকাশপথে যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত হবে। নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এ বিমানবন্দরে ত্রাণসামগ্রী নামিয়ে সড়কপথে ওখানে পাঠানো হয়েছিল। এরপর বিমানবন্দরটি ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করে নেপাল। একই প্রকৃতির আগ্রহের কথা জানিয়েছে ভুটানও।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় নির্ধারণ জরিপ, ২০১৭-এর তথ্য মতে, ৪৭ দশমিক দুই শতাংশ নিয়ে গঠিত রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি। জেলাভিত্তিক দারিদ্র্য হারের শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে পাঁচটিই রংপুর বিভাগের। ৭০ দশমিক আট শতাংশ নিয়ে দারিদ্র্যের শীর্ষ জেলা কুড়িগ্রাম। কুড়িগ্রাম ছাড়া এ তালিকায় আছে রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট। অথচ দেশের মোট খাদ্য চাহিদার ৫০ শতাংশই জোগান দেয় উত্তরাঞ্চল। এ অবস্থায় বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক হলে খুলে যাবে সম্ভাবনার অনেক দুয়ার। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নতির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ পুরো অঞ্চলের বহু মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এটা।
আমাদের প্রতিবেদক জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া তৃতীয় ঋণচুক্তির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চুক্তির আওতায় এর অর্থ জোগান দেবে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার। সূত্র মতে, প্রকল্পের অধীনে এর মধ্যে নতুন টার্মিনাল ভবন ও উড়োজাহাজ দাঁড়ানোর দুটি অ্যাপ্রোচ রানওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। বাকি ছিল রানওয়ে সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণের কাজ। এ কাজও ৯ নভেম্বর শুরু হয়েছে। এজন্য নতুন করে আরও ৮৫২ দশমিক ৯০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণের সীমানা চিহ্নিতকরণে জরিপ করেছে স্থানীয় ভূমি দফতর।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে যাত্রীসংখ্যার দিক থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অবস্থান শীর্ষে। প্রতিদিন রংপুর বিভাগের অন্তত এক হাজার যাত্রী এ বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করছে। অভ্যন্তরীণ অন্যান্য বিমানবন্দরের তুলনায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সরকারের রাজস্ব আদায় অনেক বেশি। এখানে কার্গো সার্ভিস চালু করা গেলে উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত শাকসবজি অল্প সময়ে নেপাল ও ভুটানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা যেমন অর্জন হবে, তেমনই এ অঞ্চলের চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
গত বছরের আগস্টে গণমাধ্যমে খবর আসে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন। এরপর এমন খবরও আসে, ‘বিমানবন্দরে পানি ঢুকেছে’। সীমানা প্রাচীর ভেঙে পানি ঢুকে যায় বিমানবন্দরে। তা চলে আসে রানওয়ের কাছাকাছি। বন্যাপ্রবণ এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হচ্ছে, এটা লক্ষ রাখা চাই। পুরোপুরি ‘আন্তর্জাতিক মান’ রক্ষা করেই বিমানবন্দরটির সব স্থাপনা নির্মিত হবে, সেটিই এখন কাম্য সবার।