বিশ্ব বাণিজ্য

মার্কিন কালোতালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্য করবে না জাপান

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কালোতালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিকে পণ্য সরবরাহ করবে না বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা জাপানের টোকিও ইলেকট্রন। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এ তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া অন্য কয়েকটি জাপানি প্রতিষ্ঠানও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রতি সম্মান দেখাতেই প্রতিষ্ঠানগুলো এ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। খবর: রয়টার্স।
ওই কর্মকর্তা জানান, ১৯৬০ সাল থেকে টোকিও ইলেকট্রন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করছে। তাই দেশটির সরকার ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখাটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কালোতালিকভুক্ত চীনা কোম্পানির সঙ্গে আমারা ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
চীনের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেনি টোকিও ইলেকট্রন। তবে ফুজিয়ান জিনহুয়া ইনটেগরেটেট সার্কিক কোং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকাভুক্ত হয়েছে, যারা দেশটি থেকে প্রযুক্তি পণ্য কিনতে পারবে না। যদিও ফুজিয়ানা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এছাড়া চীনের আরও কয়েকটি কোম্পানি আছে তাদের লাল তালিকাভুক্ত রয়েছে, যাদের বর্জন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি চীনের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ের ওপর নিষেধজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর দেশটির আরেক প্রযুক্তি কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনা ভিডিও নজরদারির প্রযুক্তি নির্মাণ কোম্পানি হাইকভিশন এর ওপরও মার্কিন উপকরণ ও প্রযুক্তি উপাদান ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে বলে সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র হুয়াওয়েকে এনটিটি লিস্টের অন্তর্ভুক্ত কারায় যে কোনো মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারের বেলায় শুধু কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রযুক্তি কেনা বা লাইনেন্স করাই যথেষ্ট হবে না, এ জন্য মার্কিন সরকারেরও অনুমোদন লাগবে। বস্তুত ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হুয়াওয়ের ওপর থেকে সব মার্কিন প্রযুক্তিগত সংশ্লিষ্টতা তুলে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
হুয়াওয়ে তাদের মোবাইল ফোনের জন্য মাইক্রোচিপ তৈরি করত চীনে তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান হাইসিলিকন সেমিকন্ডাক্টর থেকে। এখান থেকে সর্বশেষ মডেলের কিরিন প্রসেসর তৈরি করত তারা। এই কিরিন প্রসেসরের ডিজাইন আর্কিটেকচার তৈরি হয়েছে এআরএম হোল্ডিংসের মাধ্যমে। এর ফলে, হুয়াওয়ে ফোনে কিরিন প্রসেসরের ব্যবহারও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। হুয়াওয়ের সাম্প্রতিক প্রায় সবকয়টি ফ্ল্যাগশিপ ফোনেই ব্যবহার করা হয়েছে কিরিন প্রসেসর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তের ফল দীর্ঘ মেয়াদে হুয়াওয়ের জন্য ভয়াবহ হবে। এর ফলে হুয়াওয়ের পক্ষে নিজের জন্য মাইক্রোচিপ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। হুয়াওয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন এ বিষয়ে এখনই তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
বাণিজ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন হুয়াওয়েকে কালোতালিকাভুক্ত করেছে। এ মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা পণ্যে আরেক দফা শুল্কারোপ করে। এর জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়। ওয়াশিংটন ও বেইজিং দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে। তারা কেউই পিছু হটতে নারাজ।
হুয়াওয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান কেন হু বলেছেন, হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করে গ্রাহক ও ব্যবসার জন্য ‘একটি বিপজ্জনক উদাহরণ’ তৈরি করা হলো। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নীতিমালার সঙ্গে যা কোনোভাবেই যায় না। বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ নষ্ট করা হলো। যৌথভাবে এ সমস্যা সমাধান করা না গেলে অন্য খাত ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */