বিশ্ব বাণিজ্য

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সংকুচিত হচ্ছে তেলের বাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার সংকুচিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সংস্থাটি বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকের জ্বালানিবাজার পর্যবেক্ষণে এ খাতে ঝুঁকি বাড়ছে। একইসঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিদ্যমান অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারদর সম্পর্কে অগ্রিম পূর্বাভাস দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। খবর: সিএনবিসি।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে অবস্থান করছে। এ দর বৃদ্ধির পেছনে অবদান রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মজুদের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং ইরান ও ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন তেল রফতানি নিষেধাজ্ঞা। সম্প্রতি জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং তাদের সহযোগী বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ রাশিয়ার তেলের উৎপাদন কমিয়ে আনে। সবকিছু মিলিয়ে এ বাজারে মূল সরবরাহকারীদের মধ্যে তেলের দর বাড়ানোর ইচ্ছে আর কোনো গোপন বিষয় নয়। এ কারণে বাজারটির আকার এখন পরিণত হয়েছে কিছু মূল উৎপাদকের ইচ্ছে এবং তাদের রাজনৈতিক অভিসন্ধির হাসিলের অংশে। এখানেই মুখ্য ভূমিকা রাখছে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি।
ওপেক ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পরিষ্কার দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। ট্রাম্প চান তেলের দর ৬০ ডলারের ঘরে থাকুক। তবে ওপেক চাইতে তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে উঠে আসুক। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী চলতি এপ্রিলেই এমন ইঙ্গিত দেন।
এতকিছুর পরেও অবশ্য বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারদর রাতারাতি আকাশচুম্বী অবস্থানে পৌঁছেনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সংঘাতে বৈশ্বিক পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা একটি নেতিবাচক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। আইইএ জানায়, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে আসলে নিশ্চিতভাবেই তেলের বাজারদর কমবে।
যদিও লিবিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির বিস্তার, ইরান এবং ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন অবরোধ পরিস্থিতির অবসানে উদ্যমী নয় যুক্তরাষ্ট্র। তারা শুধু ওপেকের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই তেলের দর কমিয়ে আনতে চায়। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও তাকে উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে রাজি করাতে পারেননি ট্রাম্প।
সৌদি আরবের পাশাপাশি এখন আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ মার্কিন মিত্ররা তেলের উৎপাদন কমানোর মধ্য দিয়েই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায়ের পথে হাঁটছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */