মার্কিন পণ্যের দাম বাড়ায় বিকল্প বাজার খুঁজছে চীন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছেন। গত ৬ জুলাই থেকে তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ করা হয়েছে। পাল্টা শুল্কারোপ করেছে চীনও। এতে মার্কিন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনা ব্যবসায়ীরা বিকল্প বাজার খুঁজছেন। খবর রয়টার্স।
বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক মাংস বাজারজাতকারী ও বিপণন প্রতিষ্ঠান পিএমআই ফুডসের সাংহাই শাখার ম্যানেজার ঝাং লিহুই বলেছেন, ‘শুল্কারোপের পরে মার্কিন বাজারে মাংসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা অন্য বাজার থেকে কেনার পরিকল্পনা করেছি।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে এখন থেকে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও কানাডা থেকে কিনবেন তারা।
পিএমআই ফুড ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শূকরের মাংস আমদানি স্থগিত রেখেছে। গত মাসে মার্কিন শুল্কের পাল্টা হিসেবে চীন এসব পণ্যে শুল্কারোপ করলে প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। একই অবস্থা অন্য খাতগুলোতেও। এসব পণ্যের বিকল্প বাজার খুঁজছেন আমদানিকারকরা।
যদিও ট্রাম্পের শুল্কারোপের মূল উদ্দেশ্য ছিল চীনকে আরও মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করা, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টোটা। এতে চীনে রফতানি আরও কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঝাং লিহুই বলেন, চীনের বাজার অবশ্যই অন্যরা দখল করবে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনের অর্থনীতিবিদ জুলিয়ান ইভান্স পিচার্ড বলেছেন, মাংস, সয়াবিন, গম ও পেট্রোকেমিক্যালের মতো পণ্যগুলোর বৈশ্বিক বাজার পরিবর্তন হতে পারে।
গত জুলাইয়ে তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে সমমূল্যের মার্কিন পণ্যে শুল্ক ধার্য করে। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আরও কয়েক হাজার চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করার প্রক্রিয়া চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন ২০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে। এর আগে এ পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের পরিকল্পনা ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা আবারও বাড়ালে তারাও পাল্টা জবাব দেবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজার এর আগে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারেÑএমন আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা রফতানির তালিকা প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তালিকায় ছিল ফলমূল ও সবজি, হাতব্যাগ, রেফ্রিজারেটর, রেইন জ্যাকেট ও বেসবল গ্লাভস। সেটা বাড়িয়েই ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে, যা সেপ্টেম্বর নাগাদ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহেই ১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কার্যকর হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কাজে আসছে না। বেইজিং যেকোনো সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় না গিয়ে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকেই এগোতে থাকে তাহলে চীনও পাল্টা জবাব দেবে।
চীনের প্রযুক্তিশিল্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর মেধাস্বত্ব চুরি করছে এমন অভিযোগ এনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের সূত্রপাত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র রূপই ধারণ করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।