বিশ্ব বাণিজ্য

মার্কিন শুল্কারোপ সত্ত্বেও বেড়েছে চীনের রফতানি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মার্কিন শুল্কের চাপ থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের মে মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনের রফতানি অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। যদিও এ সময়ে দেশটিতে আমদানি কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিন্মে পৌঁছেছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের ইঙ্গিত মিলছে। খবর: রয়টার্স।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যে ৩০ হাজার কোটি ডলারের শুল্কারোপ করেন। এতে বিশ্বের বৃহত্তম দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্রতর হয়। এ কারণে বিশ্লেষকরা মনে করেছিল চীনের রফতানিতে ভাটা পড়বে। কিন্তু গতকাল সোমবার প্রকাশিত চীনের উপাত্তে দেখা গেছে অপ্রত্যাশিত ফল। এতে বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার যে আশঙ্কা বিশ্লেষকরা করেছিল তা কিছুটা হলেও কমেছে।
প্রতিবেদন মতে, গত মাসে চীনের রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এক দশমিক এক শতাংশ বেড়েছে। যেখানে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন দশমিক আট শতাংশ কমবে। এর আগে এপ্রিলেও প্রবৃদ্ধি কমেছিল দুই দশমিক সাত শতাংশ। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রফতানি কমেছে চার দশমিক দুই শতাংশ। এর আগে এপ্রিলে দেশটিতে রফতানি কমেছিল ১৩ দশমিক দুই শতাংশ। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছিল ২৬ দশমিক আট শতাংশ। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের। গত মাসে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ২১ বিলিয়ন থেকে বেড়ে পৌঁছায় ২৬ বিলিয়ন ডলারে।
এদিকে মে মাসে চীনের আমাদনি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে আট দশমিক পাঁচ শতাংশ। ২০১৬ সালের জুলাইয়ের পর এটিই সবচেয়ে কম আমদানি দেশটির। গত মাসে সব মিলিয়ে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেলি মে মাসে চীনের আমদানি হ্রাস হবে তিন দশমিক আট শতাংশ। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।
বহুদিন ধরেই বৈরী সম্পর্কের মধ্যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। একে অন্যের ওপর কয়েক বিলিয়ন ডলার শুল্কারোপ করে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেছে তারা। উভয় দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব বুঝতে পেরে এ বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করে দু’দেশ। কিন্তু আলোচনা চলামান থাকা অবস্থায় ট্রাম্প শুল্ক বাড়িয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ উসকে দিয়েছেন। কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুদিনব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দু’দেশ।

সর্বশেষ..