প্রচ্ছদ বাণিজ্য সংবাদ

মার্চ ও এপ্রিলে খেলাপি ঋণ আদায়ে ৯৩ মামলা

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: প্রতিনিয়ত বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আর এ খেলাপির কারণে বেসামাল দেশের ব্যাংক খাত। এসব খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় অর্থঋণ আদালতে মামলা করে থাকে। চট্টগ্রামে গত মার্চ ও এপ্রিলে অর্থঋণ আদালতে ৯৩ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১৭ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৭ টাকা। এর মধ্যে মার্চ মাসে ৫২টি ও এপ্রিল মাসে ৪১টি মামলা করা হয়। আর এ সময়ে পাওনা আদায়ে ৩৬টি মামলা করে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। এসব খেলাপি ঋণ আদায় নিয়ে চিন্তিত অধিকাংশ ব্যাংক ব্যবস্থাপকরা।
অর্থঋণ আদালতের সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে অর্থঋণ আদালতে ৯৩ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে মোট খেলাপির পরিমাণ ৫১৭ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৭ টাকা। এর মধ্যে মার্চ মাসে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে ৫২ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা করে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৪৭ কোটি ৭৩ লাখ ৩৪০ টাকা। আর এ পাওনা আদায়ে ৩১ মামলা করে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ব্যাংক। অন্যদিকে এপ্রিল মাসে ১৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৪১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৬৯ কোটি ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭ টাকা আদায়ের জন্য ৪১টি মামলা করে।
এর মধ্যে লংকাবাংলা ও ব্র্যাক ব্যাংক ৯টি করে খেলাপি গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করে শীর্ষস্থান দখল করে। এরপর ইস্টার্ন ব্যাংক পাঁচটি মামলা করে। এ দুই মাসে পাওনা আদায়ে ৩৬টি মামলা করে ইস্টার্ন ব্যাংক।
খেলাপি তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণত ব্যবসার প্রয়োজনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সুবিধা প্রদান করে। কিন্তু নিয়মিত পাওনা পরিশোধের ব্যর্থতায় এসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি তালিকায় স্থান পায়। এসব খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে নুরজাহান গ্রুপের মেরিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেড, রাইজিং গ্রুপের সেভেন বি অ্যাসোসিয়েট ও রাইজিং স্টিল মিলস লিমিটেড, বলাকা গ্রুপের আকতার এন্টারপ্রাইজ, সিলভিয়া গ্রুপের মিশম্যাক ডেভেলমেন্ট লিমিটেড, এমডি ব্রাদার্স লিমিটেড, মেসার্স মনীষা স্টোর, মেসার্স জামাল অ্যান্ড ব্রার্দাস প্রভৃতি।
বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকরা জানান, একদিকে খেলাপি গ্রাহক থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ঘোষণার পর থেকে ভালো গ্রাহকরাও নিয়মিত পাওনা পরিশোধ করছে না। ফলে ব্যাংক পরিচালনায় বহুমাত্রিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে নগদ প্রবাহে টাকার সংকট চলছে। এতে আমাদের অর্থ সংগ্রহে কস্ট অব ফান্ড বাড়ছে। এভাবে তো ব্যাংক চলতে পারে না। এর জন্য ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। অন্যথায় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি শ্লথ হয়ে পড়বে।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসনের অভাব এবং ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কম থাকার কারণেই মূলত ঋণখেলাপির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে ঋণ ভাগাভাগি করায় সেখানেও খেলাপির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে আগামীতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে। ফলে খেলাপিদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬৯ কোটি ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৮১২ টাকা। আর এ পাওনা আদায়ে ১৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শাখা চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। এইকভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা করে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮০ কোটি ৭১ লাখ ৬১ হাজার ২৩৯ টাকা।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..