মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিক বিষয়ে চাই সরকারের সুদৃষ্টি

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে আটক হয়েছে ৫৫ বাংলাদেশি শ্রমিক। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটে। এবারের অভিযানে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার আর নেপালের নাগরিকও আটক হয়েছে। তারা সবাই অবৈধভাবে সে দেশে অবস্থান করছিল। মালয়েশিয়ার পত্রিকা স্টারের অনলাইন সংস্করণ থেকে সংবাদটি জানা গেছে। এ বিষয়ে শেয়ার বিজ একটি সংবাদ প্রকাশ করে গতকাল।
বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার হলো মালয়েশিয়া। এখানে কয়েক লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত। অবশ্য শুরু থেকেই এ শ্রমবাজার নিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া লোক পাঠানো, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেওয়াসহ নানা অনিয়ম ঘটেছে। এতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কদর যেমন কমেছে, তেমনি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হয়েছে। এর আগে অবৈধ বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন বিশেষ উদ্যোগ নেয়। তারপরও সে দেশে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক হয়ে পড়ে অবৈধ।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। দুই দেশের সরকারের সহযোগিতা তথা জি টু জি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর চুক্তি হয়। এজন্য বাংলাদেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে পদ্ধতিও নষ্ট করে ফেলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। নির্ধারিত অঙ্কের বাইরে অর্থ আদায়, ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই শ্রমিক প্রেরণ ইত্যাদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এ কাজে মালয়েশিয়া সরকারের বিভিন্ন স্তরের কিছু লোকের সঙ্গে যোগসাজশ গড়ে তোলা হয়। দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নেয় মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু শ্রমিকদের কাছ থেকে। ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই সেখানে পাড়ি জমানো শ্রমিকরা পড়ে যায় মহাসংকটে। একদিকে বৈধভাবে কাজের সুযোগের অভাব, অন্যদিকে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া সে দেশে পাড়ি দিয়ে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয় তারা। এ অবস্থায় খরচের টাকা উসুল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বৈধভাবে যেসব শ্রমিক গেছে, তারাও খরচ উসুল করতে ক্রমে অবৈধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কর্মে নিয়োজত শ্রমিকরা সে দেশের সরকারের বিভিন্ন অভিযানে আটক হয়ে আরও মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের অবৈধভাবে পাঠিয়েছে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বা অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে; তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শ্রমিক অভিবাসন বিষয়ে মাহাথির সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। লোক নিয়োগে অনিয়মবিষয়ক এক তদন্তে জানা যায়, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শ্রমিক নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে ২০০ কোটি রিংগিত হাতিয়ে নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকার শ্রমিক অভিবাসন বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ১০টি এজেন্সির পরিবর্তে সব এজেন্সিকে সুযোগ করে দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। এগুলো ইতিবাচক বটে। কিন্তু যেসব শ্রমিক সে দেশে অবৈধ হয়ে পড়েছে, তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এ অবস্থাটি একদিকে অমানবিক, অন্যদিকে দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তাই দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা ও শ্রমিক প্রেরণে মর্যাদা উদ্ধারে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি দেখতে চাইবে সবাই।