মাশরাফির হাত ধরে রংপুরের শিরোপা

ক্রীড়া ডেস্ক : শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ বলে কথা। সবার মধ্যেই থাকে বাড়তি চাপ। গতকাল মিরপুরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের ফাইনালেও সেটায় যেন প্রথম দিকে ভর করেছিল ক্রিস গেইলের ওপর। ঢাকা ডায়নামাইটসকে সুযোগও দিয়েছিলেন দ্রুত ফিরে যেতে। কিন্তু সাকিব আল হাসানের সৌজন্যে নতুন জীবন ফিরে পেলেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি এ বাঁহাতি ওপেনার। রীতিমতো প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর ঝড় তুললেন। করলেন সেঞ্চুরি। হাঁকালেন ১৮টি ছক্কা। পাল্টে দিলেন রেকর্ড বুকের অনেক কিছুই। তাতেই ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে সহজে জিতে মাশরাফি বিন মুর্তজার হাত ধরে বিপিএলের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলল রংপুর রাইডার্স।

বিপিএলের দ্বিতীয় আসর থেকেই খেলে আসছে রংপুর রাইডার্স। পঞ্চম আসরের আগে দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ছিল লিগ পর্বেই সমাপ্তি। কিন্তু এবার মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে শুরু থেকেই দারুণ কিছুর সম্ভাবনা দেখিয়েছিল দলটি। মাঝে অবশ্য একটু শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে তার হাত ধরেই প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল রংপুর। এ নিয়ে বিপিএলে চতুর্থবার শিরোপা ছুঁলেন ম্যাশ।

গেইলের ৬৯ বলে ১৪৮ রানে ভর করে নির্ধারিত ওভার শেষে গতকাল ১ উইকেটে ২০৬ রান করে রংপুর। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই রংপুরের বোলিং তোপে পড়ে ঢাকা। ২৯ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের চার উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগকিতরা। এরপর সাকিব আল হাসান কিছুটা হাল ধরেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৬ রান করে তিনি ফিরে গেলে জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ডায়নামাইটসের। শেষ দিকে জহুরুল ইসলামের ব্যাটে শুধু পরাজের ব্যবধান কমায় দলটি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানে থামে ঢাকা। তাতে ৫৭ রানের দুর্দান্ত জয়ের সঙ্গে প্রথমবার বিপিএলের শিরোপাটাও নিজেদের করে নিল রংপুর।

মাশরাফির নেতৃত্ব গুণ ছাড়িয়ে গতকাল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই সব আলো কেড়ে নেন ক্রিস গেইল। রীতিমতো প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান তিনি। সঙ্গী হিসেবে এ বাঁহাতি পান আরেক মারকুটে ম্যাককালামকে। যদিও শুরুতে ওপেনার জনাথন চার্লসকে হারিয়ে শঙ্কায় পড়েছিল রংপুর। কিন্তু মুহূর্তেই সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেন গেইল।

রংপুর ইনিংসের একাদশ ওভারে খালিদ হাসানের বলে ঝড় তুললেন গেইল। শেষ দুই বলে এ বাঁহাতি হাঁকালেন দুটি ছক্কা। এরপরই ৩৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। দলের রান তখন ৮১। এরপর তার ব্যাটে বাড়ে আরও গতি। পরে আর মাত্র ২৪ বল খেলেই সেঞ্চুরি উল্লাসে মাতেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন ম্যাককালাম। ৫৭ বলে সেঞ্চুরি করা গেইলের পাশে ৩২ বলে ৩৩ রান তখন তার!

সেঞ্চুরির পর ১২ বলে গেইল আরও করেন ৪৬ রান। যেখানে ছিল আরও সাতটি ছক্কা ও একটি চার।  শেষ ১০ ওভারে ১৪৩ রান করেন গেইল-ম্যাককালাম জুটি। তাতেই গত পরশু চার্লস-ম্যাককালামের গড়া ১৫১ রানের জুটিটা ভেঙে গেল। গতকাল ২০১ রান তোলেন গেইল-ম্যাককালাম দ্বিতীয় উইকেট জুটি। তাতে ম্যাককালাম করেন ৫১ রান।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই মাশরাফির শিকারে সাজঘরে ফিরে যান মেহেদি মারুফ। এরপর জো ডেনলি ও এভিন লুইসকে ফেরান সোহাগ গাজী। সাকিব চেষ্টা করেছিলেন বড় ইনিংস খেলতে। কিন্তু ১৬ বলে ২৬ রানে তাকে দারুণ সেøায়ারে বোল্ড করেন নাজমুল ইমলাম অপু। এর কিছুক্ষণ পরই পোলার্ডকে প্যাভিলিয়নে পাঠান রুবেল হোসেন। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে ছিলেন জহুরুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত অপর প্রান্ত থেকে উইকেট হারানোয় লক্ষ্যটা হয়ে দাঁড়ায় এ ডান হাতির জন্য পাহাড়সম।

রংপুর রাইডার্সের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন সোহাগ গাজী, নাজমুল ইসলাম অপু ও উদানা নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া মাশরাফি, রুবেল, বোপারা নিয়েছেন একটি করে উইকেট।