মত-বিশ্লেষণ

মাহে রমজান: রমজানে সাহরি খাওয়া

রোজা পালনের জন্য সুবহে সাদিকের আগে ভোররাতে যা কিছু খাওয়া হয়, তাকে উর্দুতে ‘সাহরি’ আর আরবিতে ‘সুহুর’ বলা হয়। সাহরির অর্থ হলো যা কিছু রাতের শেষভাগে খাওয়া হয়। রোজা পালনের জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত ও অধিক পুণ্যের কাজ। ক্ষুধা না থাকলেও রমজান মাসে শেষরাতে যে খাবার খাওয়া হয়, তা-ই সাহরি। সামান্য একটু পানি পান করাকেও সাহরি হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহরি খাওয়ার মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের ওপর আমল করা হয়। সাহরি খাওয়ার মধ্যে অফুরন্ত রহমত, বরকত, নিয়ামত ও কল্যাণ আছে। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত নিহিত রয়েছে।’ (বুখারি ১৯২৩)
সাহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয়। সাহরি খেলে রোজাদার সহজে দুর্বল ও মনোবলহীন হয়ে পড়বে না। সারা দিন দীর্ঘ সময়ের উপবাস বা অনাহারে থাকলেও কর্মঠ থাকার প্রাণশক্তি আসে এবং সিয়াম পালন সহ্যসীমার মধ্যে থাকে। রমজান মাসে শেষরাতে ক্ষুধা না থাকলেও অন্তত দু-একটি খুরমা বা খেজুর অথবা অন্য কোনো জিনিস খাবেন; কিছু না হলে একটু পানি পান করবেন। এতে সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। পেট ভরে সাহরি খাওয়া জরুরি নয়, সামান্যই যথেষ্ট। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি কিছু না জোটে তবে একটি খেজুর এবং এক গ্লাস পানি পান করো।’ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘তোমরা সাহরি খাও! যদি তা এক ঢোঁক পানিও হয়।’ অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘তোমরা সাহরি খাও! যদিও তা এক লোকমা হয়।’ রোজা রাখার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। ফজরের ওয়াক্ত আসার পূর্বক্ষণে সাহরি খেলে রোজা রাখা অধিকতর সহজ হয়, ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কষ্ট করতে হয় না। সতর্কতা অবলম্বন করে ফজরের অনেক আগে সাহরি শেষ করা সুন্নত নয়। সাহরির সময় শেষ হলো কি না তা জানবেন নিজের চোখে পূর্বাকাশের শুভ্রতা, অথবা নির্ভরযোগ্য ক্যালেন্ডার ও নির্ভুল ঘড়ির মাধ্যমে সময় দেখে।
ইফতারে বিলম্ব না করা
সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রাতের আগমন ঘটে ও ইফতার করার সময় হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যত দিন সময় হওয়া মাত্র ইফতার করবে, তত দিন কল্যাণের সঙ্গে থাকবে।’ (বুখারি-২৮৫২)
রমজান ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোজখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার সওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান।
পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসের কিতাবগুলোতে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর ভেতর থেকে কিছু হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো
নবী (সা.)-এর প্রিয় সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারি, মুসলিম)
তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তা ও ঝগড়া-বিবাদে যেন লিপ্ত না হও। কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া-বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার।
রোজাদারের খুশির বিষয় দুটি যখন সে ইফতার করে, আরেকটি হলো যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে। (বুখারি)
পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা বেড়ে গেছে আরও বহুগুণ।
রমজানের ফজিলত নিয়ে আরও অনেক হাদিস বিভিন্ন সাহাবির কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে একটি নফল আমল করল, সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করেছে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করেছে।

সর্বশেষ..