মত-বিশ্লেষণ

মাহে রমজান

পবিত্র কোরআন মজিদে বহু স্থানে সালাত-জাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ সওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে ‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং জাকাত প্রদান কর। তোমরা যেসব সৎ কাজ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছ থেকে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখছেন। (সুরা বাকারা: ১১০)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে: তোমরা সালাত আদায় কর, জাকাত দাও এবং রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’ (সুরা নূর: ৫৬)
সুরা নিসারের ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহতাআলা তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আজিম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে: ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, আমি তাদের মহাপুরস্কার দেব।’
অন্য আয়াতে জাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহতাআলা বলেন: ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ কর, যার দ্বারা তাদের পবিত্র করা হবে। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা তাওবা: ১০৩)
এছাড়া কোরআন মজিদের বিভিন্ন আয়াতে, যেখানে খাঁটি মুমিনের গুণ ও বৈশিষ্ট্য উল্লিখিত হয়েছে, সেখানে সালাত-জাকাতের কথা এসেছে অপরিহার্যভাবেই।
কোরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত পুণ্যশীলদের পরিচয় যেখানে দেওয়া হয়েছে, সেখানে সালাত-জাকাতের উল্লেখ এসেছে। (সুরা বাকারা ১৭৭)
মুমিনের বন্ধু কারা এ প্রশ্নের উত্তরেও সালাত-জাকাতের প্রসঙ্গ শামিল রয়েছে। (সুরা মায়েদা: ৫৫)
‘সৎকর্মপরায়ণদের বৈশিষ্ট্য ও কর্মের তালিকায় সালাত-জাকাতের প্রসঙ্গ অনিবার্য। (সুরা লুকমান: ৪)
কোরআন মজিদ কাদের জন্য হেদায়েত ও শুভসংবাদদাতা এর উত্তর পেতে চাইলেও সালাত-জাকাত অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। (সুরা নামল: ৩)
ভূপৃষ্ঠে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভের পরও মুমিনদের অবস্থা কী তা জানতে চাইলে সালাত-জাকাতই অগ্রগণ্য। (সুরা হজ্জ: ৪১)
দ্বীনের মৌলিক পরিচয় পেতে চাইলে সালাত-জাকাত ছাড়া পরিচয় দান অসম্ভব। (সুরা বাইয়েনা: ৫)
এত অধিক গুরুত্বের সঙ্গে সালাত-জাকাত প্রসঙ্গে কোরআন মজিদে এসেছে যে, এটা ছাড়া দ্বীন ও ঈমানের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না। মুমিনের অন্তরের ঈমান সালাত-জাকাতের বিশ্বাসের ওপর এবং কর্মগত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।
পবিত্র কোরআনের সুরা আত-তাওবা জাকাত বণ্টনে আটটি খাত আল্লাহতায়ালা নির্ধারণ করেছেন। এ খাতগুলো সরাসরি কোরআন দ্বারা নির্দিষ্ট এবং যেহেতু তা আল্লাহর নির্দেশ, তাই এর বাইরে জাকাত বণ্টন করলে জাকাত ইসলামি শরিয়তসম্মত হয় না।
ফকির (যার কিছুই নেই)
মিসকিন (যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই)
জাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (যার অন্য জীবিকা নেই)
(অমুসলিমদের) মন জয় করার জন্য
ক্রীতদাস (মুক্তির উদ্দেশ্যে)
ধনী-সম্পদশালী ব্যক্তি, যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশি
(স্বদেশে ধনী হলেও বিদেশে) আল্লাহর পথে জেহাদেরত ব্যক্তি
মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অভাবে পতিত)
হাদিসমতে, এগুলো (উপরোল্লিখিত) ফরজ সাদকাহের খাত এবং নফল সাদকাহ এই আট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরিসর আরও প্রশস্ত। উল্লিখিত খাতগুলোয় জাকাত বণ্টন করতে হবে সঠিক পন্থায়। অনেকে জাকাতের অর্থে শাড়ি ক্রয় করে তা বণ্টন করে থাকেন। এভাবে জাকাত আদায় হয়ে গেলেও প্রকৃতপক্ষে জাকাত গ্রহণকারীর তেমন উপকার হয় না। তাই জাকাত বণ্টনের উত্তম পন্থা হলো জাকাত যাদের প্রদান করা যায়, তাদের একজনকেই বা একটি পরিবারকেই জাকাতের সম্পূর্ণ অর্থ দিয়ে স্বাবলম্বী করে দেওয়া।
জাকাত বান্দাকে স্রষ্টার কাছে আসতে সহায়তা করে। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা স্তম্ভ হিসেবে জাকাত অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র স্র্রষ্টার সান্নিধ্য লাভই নয়, একে অপরের প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি ও সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ গঠনে অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে জাকাত।

সর্বশেষ..