প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

মিউচুয়াল ফান্ডেও গতি ফিরছে

লেনদেনে শীর্ষে বস্ত্র খাত

রুবাইয়াত রিক্তা: প্রণোদনার পরও বাজেট পাসের পর থেকে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের অধিকাংশই এসব প্রণোদনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তারপরও সর্বশেষ চার কার্যদিবস ধরে ডিএসইতে প্রধান সূচকের পতন হচ্ছে। সে সঙ্গে অধিকাংশ খাতেই শেয়ারের দরপতনও বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তুলছে। মাঝে মাঝে দু-একটি খাত ভালো করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। আগের দিন ইতিবাচক হলে পরদিনই দরপতন হয়। গতকাল সপ্তাহের সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ ও রসায়ন এবং বিমা খাতের কল্যাণে সার্বিক সূচকের গতি ফিরলেও তা লেনদেন হ্রাস ঠেকাতে পারেনি।
সপ্তাহের সর্বশেষ কার্যদিবসে গতকাল লেনদেনের বড় অংশজুড়ে ছিল বস্ত্র খাত। এ খাতের মোট লেনদেন ৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন দুই দশমিক ছয় শতাংশ কমেছে।
লেনদেনে এরপরের অবস্থানে ছিল ছিল প্রকৌশল খাত। নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস ও বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের ওপর ভর করে দিন শেষে এ খাতের মোট লেনদেন ৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দাম কমলেও আগের দিনের তুলনায় ওইদিন রানার অটোমোবাইলসের লেনদেন তিন দশমিক ১৫ শতাংশ ও সিঙ্গার বাংলাদেশের লেনদেন এক দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। দিনশেষে বাজারের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানিগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ওই দুই কোম্পানি।
প্রায় ৪৯ দশমিক ৮৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের মধ্যদিয়ে গতকাল লেনদেনে এগিয়ে থাকা খাতগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বিমা। এ খাতের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৩ দশমিক আট শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানি ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের সাত কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা এর আগের দিনের তুলনায় এক দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।
একইভাবে প্রায় ১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের জেরে জীবন বিমা কোম্পানি ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সও বাজারের লেনদেন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সে সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড, সেবা ও আবাসন এবং ট্যানারি খাতের শেয়ার লেনদেন উল্লেখ্যযোগ্য হারে বেড়েছে।
ডিএসইতে গতকাল ৩৫১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার-ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৮ কোটি কোম্পানি-ফান্ডের শেয়ারদর বেড়েছে। এর বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৩১টি কোম্পানি ও ফান্ড। দিন শেষে ৪২টি কোম্পানি-ফান্ডের শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। বেশিরভাগ কোম্পানির দর বৃদ্ধির কারণে দিনশেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক আট দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৩৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সে সঙ্গে ডিএসই৩০ সূচকও দশমিক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯১০ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। তবে শরিয়াহ্ সূচক দশমিক ৫৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২৩৩ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে নেমেছে। দিনশেষে ডিএসইর মোট লেনদেন ৪৮৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..