প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা ছাড়া বাকি খাতগুলোয় জ্বলছে লালবাতি!

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল বড় পতন হয়েছে। ৭৭ শতাংশ কোম্পানির দরপতনের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচকের পতন হয়েছে ৯৭ পয়েন্ট। লেনদেনও কমে গেছে। গতকাল দর বেড়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ বা ৬১টি কোম্পানির। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২৯টির ইউনিটের দর বেড়েছে। বিমা খাতে ২২টি কোম্পানির দর বেড়েছে। অন্যান্য বৃহৎ খাতগুলোতে দু-একটি করে কোম্পানির দর বেড়েছে। বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ড বাদ দিয়ে বাকি খাতগুলোতে লালবাতি জ্বলছে।
গতকাল সবচেয়ে বেশি ১৮ শতাংশ লেনদেন হয় বিমা খাতে। এ খাতের ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে ছয় কোটি টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সোয়া ছয় কোটি টাকা, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ছয় কোটি টাকা ও প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের সোয়া পাঁঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে সবকটি কোম্পানির। প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স দরবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে চার কোম্পানির দর বেড়েছে। জেএমআই সিরিঞ্জের সাড়ে সাত কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৬০ পয়সা দরপতন হয়। প্রকৌশল খাতে ১০ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতে একমাত্র সিঙ্গার বিডির দর ৭০ পয়সা বেড়েছে। জ্বালানি ও বস্ত্র খাতে ৯ শতাংশ করে লেনদেন হয়। জ্বালানি খাতে দুই কোম্পানির দর বেড়েছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ১৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দুই টাকা ৮০ পয়সা। ইউনাইটেড পাওয়ারের সহযোগী ইউনাইটেড আশুগঞ্জ এনার্জি লিমিটেড সবশেষ হিসাববছরের জন্য ২৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার প্রভাব পড়েছে ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারদরে। অন্যদিকে আমাদের দেশে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যে কতটা লোকসানে পড়ে, তার প্রমাণ সম্প্রতি চামড়াশিল্প খাতের ফরচুন শুজের সঙ্গে ৪০ লাখ ডলারের চুক্তি করেছে জুতার বৃহৎ ফ্যাশন ডিজাইনার স্টিভ ম্যাডেন। এই চুক্তির ফলে আগামী অক্টোবর থেকে স্টেভ ম্যাডেনের কাছে ৪০ লাখ ডলারের জুতা রফতানি করবে ফরচুন শুজ। চুক্তিটি সম্পন্ন হয় গত ১৯ জুলাই। অথচ পুঁজিবাজারে গত ১০ জুলাই থেকে ফরচুন শুজের শেয়ারদর বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিটি লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে অবস্থান করে। ৯ জুলাই শেয়ারটির দর ছিল ৩৪ টাকা ৩০ পয়সা। ১৮ জুলাই শেয়ারটির দর উঠে যায় ৩৯ টাকা ৯০ পয়সায়। অথচ ১৯ জুলাই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর শেয়ারটির দর বাড়ার কথা থাকলেও গতকাল শেয়ারটির দর কমেছে ১০ পয়সা। আগেই এ তথ্য জেনে যারা শেয়ারটি কিনেছিল গতকাল তারা মুনাফা তুলে নেয়। আর এভাবেই প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা, যে কারণে বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন তারা।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..



/* ]]> */