প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

মিরসরাইয়ে খাল ভরাট করে বিএসআরএমের কারখানা

সোনাপাহাড়ে বারোমাসি খাল

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: দেশের ইস্পাত খাতের মার্কেট লিডার খ্যাত বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিল (বিএসআরএম)। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় স্থাপন করেছে দেশের বৃহৎ বিলেট কাস্টিং প্লান্ট। কিন্তু এ প্লান্ট তৈরি করতে গিয়ে পাশের বারোমাসি খালের প্রায় এক কিলোমিটার ভরাট করে তা বেদখল করেছে বিএসআরএম। আর খালের ভরাটকৃত জায়গায় কাঁচামাল রাখার কাজে ব্যবহার করছে বিএসআরএম। এতে খালটির পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি গতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া পাহাড়ি ঢলের পানি খাল দিয়ে বের হতে না পারায় পাশের লোকালয় প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বিএসআরএম কয়েক বছর আগে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় দেশের বৃহৎ বিলেট কাস্টিং প্লান্ট স্থাপন করে। এখানে বছরে ১০ লাখ টন বিলেট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্লান্টটি স্থাপন করতে গিয়ে গোপনে সোনাপাহাড়ের খিলমুরালি এলাকায় বারোমাসি খালের এক কিলোমিটার দখল ও ভরাট করে বিএসআরএম। ভরাটকৃত জায়গাটি নিজেরাই ব্যবহার করছে। এতে খালটির পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি গতি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষতিসহ পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এলাকার জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকসুদ আহমদ চৌধুরী বলেন, বিএসআরএমের এ প্লান্ট আমার ইউনিয়নে পড়েছে। এটি তৈরিতে তারা কিছু অনিয়ম করেছে। বিশেষ করে পাহাড় কাটা ও খাল ভরাট।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিন্ধুর‌্যা টিলা থেকে বারোমাসি খালের উৎপত্তি। বছরখানেক আগে বিএসআরএম খালটি ভরাট করে। তাতে গত বছর পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কয়েকদিন পুরো এলাকা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ছিল। চলতি বছরও বৃষ্টির শুরুতে বাড়িঘরে পানি ওঠে। আর ফসলি জমিতে অতিরিক্ত পলি ও বালি জমার ফলে অনাবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিএসআরএম তাদের প্লান্ট তৈরি করতে গিয়ে পাহাড় কাটার পাশাপাশি এক কিলোমিটারের অধিক খাল ভরাট করেছে। এই খাল দিয়ে ১২ মাস পানি প্রবাহিত হতো। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনসহ শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ হতো। কিন্তু তারা খাল ভরাট করায় পানির গতি পরিবর্তন হয়ে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে সোনাপাহাড় এলাকার পানি আগে পৌরসভা আসত না। এখন পানির গতি পরিবর্তনের কারণে পৌরসভার চারটি ওয়ার্ড প্লাবিত হচ্ছে। তারা তো সরকারি খাল ভরাট করতে পারে না। আর খাল ভরাটের সঙ্গে কত একর খাসজমি দখল করেছে সেটাও দেখার বিষয়। গত ১৬ জুন ডিসি অফিস মিটিংয়ে আমি বিষয়টি উপস্থাপন করি। আমি ডিসি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাই। এটাও শুনেছি তারা নাকি ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে নতুন খাল করছে। কিন্তু কোটি কোটি টাকার খালের জায়গা দখল করে দুই-এক কোটি টাকার নতুন খাল কাটতে তাদের কে বলেছে?’
এ প্রসঙ্গে বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত শেয়ার বিজকে বলেন, ‘খালটি আগে থেকে ভরাট হয়ে আছে। আমরা কোটি টাকা খরচ করে বড় করে খাল কেটে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এজন্য রেলওয়ে আমাদের সাধুবাদও জানিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকটা খাল কাটা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্লান্টের পাশে পানি জমে না। পানির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে আমাদের ফ্যাক্টরির পেছনে রেললাইনের পর থেকে। সেখানে খাল অন্যরা ভরাট করেছে। তবে তার বক্তব্য যাচাই করার জন্য সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইনের মধ্যখানে কেউ খাল ভরাট করেনি। তবে পানির গতি পরিবর্তন হওয়ার কারণে আগের মতো পানি চলাচল করে না।’
বিএসআরএমের খাল ভরাটের বিষয়ে মীরসরাইয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাল ভরাটের বিষয়ে আমি এখনও কিছু জানি না। আর কেউ অভিযোগ কিংবা অবহিত করেনি।
একই বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, গত রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করব। যদি কেউ অবৈধভাবে দখল করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ প্রাকৃতিক খাল ভরাট করার এখতিয়ার কারও নেই।

 

সর্বশেষ..