দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ‘মিথ্যাচার’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমার বলেছে, বাংলাদেশের কারণে নাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ এ বিষয়ে এক পায়ে খাড়া!’
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তার আগে গত কয়েক দশকে এসেছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা কেউ ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সে পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে যায়।
গত মে মাসের শেষে জাপানে অনুষ্ঠিত ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলনের একটি সেশনে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের অসহযোগিতায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার বিদেশি কূটনীতিকদের ডেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমার এ রকম ‘ডাহা মিথ্যা’ কথা বলে। প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে তাদের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু ৮০০ গ্রামের মধ্যে মাত্র দুটির পরিস্থিতি তারা ভালো দেখিয়ে বলছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই। তারা কথা রাখেনি।
মিয়ানমার বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে ‘মিস ইনফরমেশন’ ছড়ায় অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমরা আমাদের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। তারা আমাদের বন্ধু। তাদের নিয়েই নিয়মের মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া দরকার। কিন্তু এ রকম ডাহা মিথ্যা আমরা কেমন করে কত হজম করতে পারি। আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ফিরে যাক টাই আমরা চেয়েছি। কিন্তু মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও কথা রাখছে না। আমরা তাদের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল। দুবছরের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু হয়নি। তারপর বলা হলো, ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রক্রিয়া শুরু করবে। সেটাও হয়নি। কিছুদিন আগে মিয়ানমারে চতুর্থ যৌথ সম্মেলনে গেলাম;তখন আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। বোধ হয় প্রক্রিয়াটা শুরু হলো;কিন্তু সেটাও হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশি কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছি। এ বিষয়ে তারা কী করবেনÑসেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তবে আমরা তাদের সহায়তা চেয়েছি।
বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। আমরা বলেছি, আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি।’
রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বিভিন্ন সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ভারত, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রাজিল, ফিলিস্তিন প্রভৃতি মিশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

 

সর্বশেষ..