মুক্তিকামী বাঙালি

অনাথ শিশুর মতো যার জীবনখানি নিস্তরঙ্গে নিথর হতে পারতোÑনিযুত জীবনের নিঠুর নিয়তিপাশে তিনিই জুগিয়েছেন হৃৎস্পন্দনের খোরাক। দেশের জন্য লড়েছেন। শূন্য জমিনে গড়েছেন ব্যবসাকাঠামো। জীবনের সব অর্জন লিখে দিয়েছেন সাধারণের নামে। তিনিই দেশের সবচেয়ে সফল ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান ‘কুমুদিনী ট্রাস্ট’-এর জনক রণদা প্রসাদ সাহা। নারীশিক্ষা ও চিকিৎসায় নারী-পুরুষ কিংবা ধনী-গরিবের ভেদ ভেঙেছেন। তার জীবনে রয়েছে সসীমকে ডিঙিয়ে অসীমে শক্তিসঞ্চারের প্রয়াস। এ জীবন ও কেতন যেন রোমাঞ্চিত হৃদয়েরই উদ্দীপ্ত প্রেরণা।  পর্ব: ৪

মিজানুর রহমান শেলী: কেবল একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা হিসেবে রণদাকে মাপা যায় না। ব্যবসাটি ছিল তার অনুধ্যানে মুক্তির উপায় মাত্র। অনিবার্য মুক্তি বা তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করা। এ দুটি অধিকার নিশ্চিত হলে সমাজ উন্নয়নের অন্যান্য সূচক হাতের নাগালে চলে আসে। বিশ শতকের গোড়ার দিকে বাঙালির এ মুক্তি কামনা রাজনৈতিকভাবে প্রবল রূপ লাভ করে। সেই ইতিহাস যতটা রাজনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কে দেখা হয়েছে, প্রান্তিক বা অগঠিত জনগোষ্ঠীর কাঠামো থেকে ততটা দেখা হয়নি।

রণদা প্রসাদ সাহা ছিলেন সমাজের প্রান্তিক বা অগঠিত শ্রেণিস্তরের মানুষ। তার কলকাতা যাত্রার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল নিজের ভাগ্যানুসন্ধান। কিন্তু শেষ অবধি, এ আপন ভাগ্য বাঙালির ভাগ্য হয়ে তার জীবনোদ্দেশ্যে জায়গা করে নেয়। উনিশ শতকজুড়ে যে নবজাগরণ বাংলায় উথলে উঠেছিল, তার উত্তপ্ত উনুন ছিল কলকাতা। সেখানকার সেই ছাঁচে মোড়ানো উষ্ণতা পাশেই স্থির হয়েছিলেন রণদা।

উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুর ভাগটিতে বাংলার জনস্বাস্থ্য ছিল ভীতিকর। আসাম ও বাংলা মিলে এ অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য একমাত্র উল্লেখ করার মতো প্রতিষ্ঠান ছিল ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল। ১৯০৭ সালের দিকে প্রতি ১০ লাখ লোকের জন্য একটি ডিসপেনসারি ছিল। যোগাযোগব্যবস্থা আর দারিদ্র্যের দরুন জনগণ এ সেবাটুকুও ঠিক গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে মৃত্যুহার জš§হারের তুলনায় বেড়ে যায়। ১৯২১ সালের পরের ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহার পরিসংখ্যানে উঠে আসে। জনসংখ্যা ৩৩.৩ মিলিয়ন থেকে ২৫.৬ মিলিয়নে নেমে যায়। যদিও এ সময় কোনো দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়নি। নানা রোগবালাই এ অঞ্চলে লেগেই ছিল।

সারা দেশের মতো টাঙ্গাইলের আর্থিক অবস্থাও ছিল শোচনীয়। ফলে তাদের জন্য দূরে কোথাও গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়া ছিল অসাধ্য। ১৮৭৫ সালে ডব্লিউ হান্টারের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবিরাম ম্যালেরিয়া ছিল এ অঞ্চলের স্থানীয় রোগ। তাছাড়া আমাশয় আর বাতজ্বর ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। ব্রঙ্কাইটিস রোগটি প্রায় সব সময়ই দেখা দিত। যক্ষ্মারোগের প্রাদুর্ভাব ছিল জেলখানাতে সবচেয়ে বেশি। কলেরা রোগটি সারা বছর লেগেই থাকত। তবে বছরের কিছু সময় এটা মহামারি আকারে রূপ নিত। বসন্ত রোগ এখানে সচরাচর হয়েই থাকত। ১৯০০, ১৯০৫ ও ১৯১৫ সালে টাঙ্গাইল জেলায় অসংখ্য লোক কলেরায় মারা যায়। আবার জলাবদ্ধ হওয়ায় লাশের সৎকার করাও সম্ভব হতো না।

এ সময়টাই ছিল রণদা প্রসাদ সাহার বাল্য বয়স। রণদা স্বয়ং এসব কষ্ট-ব্যথা অনুভব করেছেন। এরপর রণদা যখন কলকাতায় গেলেন, সেখানেও তার অভিজ্ঞতায় একই চিত্র ভেসে ওঠে। কলকাতার হুগলি নদীর শ্মশানঘাটে বর্ষাকালে কেবল মাথার খুলিই চোখে পড়ত। এতে নানা রকম রোগবালাই ছড়াত। কেবল বাঙালিই যে এ সংকট সয়েছে, তা নয়। পর্তুগিজসহ নিম্ন আয়ের ইউরোপীয় যারা কলকাতার হুগলি নদীর তীরে বাস করত, তারা এক প্রকট মহামারির শিকার হয়। তাছাড়া বাংলায় ওই সময়টিতে মৃত্যুহারের হিসাবে যুবক বয়সীরাই ছিল সর্বাধিক। তাছাড়া রণদা তার ছোট্ট বয়সে মাকে হারিয়েছিলেন চিকিৎসার অভাবে। সেই ব্যথা তার হৃদয়কে অহর্নিশি নিথর করে রেখেছিল।

শিক্ষা খাত ছিল একই দুরবস্থায় নিপতিত। সুদূর অতীতে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ছিল পাঠশালা, চণ্ডীমণ্ডপ ও গুরুগৃহকেন্দ্রিক। এরপর সুলতানি আমলে এসে এ অবস্থায় নতুন মাত্রা আসে। তখন বহু শিক্ষিত মুসলিম মনীষী সমাজে শিক্ষা প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। দেশি শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি তখন বিদেশে ও স্থানীয় মুসলিমদের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে। মুসলমানদের এ শিক্ষাব্যবস্থা ছিল মোটামুটি মসজিদকেন্দ্রিক। এখানে আরবি-ফারসি ভাষায় শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর ছিল। তবে এর পাশাপাশি টোল, পাঠশালা আর মক্তবজাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা, সংস্কৃতি, গণিত, আরবি ও ফারসি শেখানো হতো। আবার এ আমলে দেশে বেশ কয়েকটি দরগাহ বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পীর বা দরবেশরা খানকাহে ইসলামি অনুশাসন, আধ্যাত্মিকতা ও চিকিৎসাশাস্ত্রে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রেখেছিল।

এরপরের পাঠান আমলে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি হয়নি, তবে কোনো উন্নয়নমূলক কাজও হয়নি। এরপরের মোগল আমলে শিক্ষা-দীক্ষায় বেশ প্রসার ঘটেছিল। এ ব্যাপারে ১৮১৮ সালে বাংলায় আসা ইংলিশ মিশনারি উইলিয়াম অ্যাডাম বর্ণনা করেন, সেকালে মুসলিমরা বহু বেসরকারি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারা শিক্ষাকে পেশা ও জীবিকার উপায় হিসেবে গ্রহণ করেননি। বরং পুণ্যের কাজ বলে মনে করতেন। তখন প্রাথমিক শিক্ষা চলত বাংলা মাধ্যমে। আর উচ্চশিক্ষা ছিল আরবি ও ফারসিতে। বহিরাগত মুসলিমরা সব সময়ই আরবি ও ফারসি ব্যবহার করত। মসজিদে মুসলিম শিক্ষার্থীরা কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি আরবি, ফারসি, বাংলা, গণিত ইত্যাদি জ্ঞান লাভ করত। পারিবারিক বিদ্যালয়ে উচ্চ শ্রেণির মুসলিমরা নিজেদের ও প্রতিবেশীদের শিক্ষা দান করতেন। বিত্তশালীরা নিষ্কর জমি, ওয়াক্ফ ও লাখেরাজ সম্পত্তি দান করে এ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতেন। ঢাকা বা ময়মনসিংহ জেলার আশপাশে হিন্দুদের জন্য দেশি সংস্কৃত ভাষায় টোল আর মুসলিমদের জন্য মক্তব ছিল।

সংস্কৃত ব্যাকরণ শেখার বয়স ছিল আট বছর। তর্কশাস্ত্র শেখার সময় ছিল ১২ বছর। জ্যোতিষবিদ্যা আর ভেষজবিদ্যা শেখার জন্য বিখ্যাত ছিল বিক্রমপুরের টোল। মোগলদের আমলে কেবল ঢাকাতেই ৩০২ জন হিন্দু শিক্ষার্থীর জন্য ১১টি টোল ছিল। আর ১১৫ জন মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য মক্তব ছিল ৯টি। শিক্ষা খাতে সহায়তা দিতে মোগল সরকার মাওলানা আসাদুল্লাহকে প্রতি মাসে ৬০ টাকা দিতেন।

কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের পরে এ ধারাবাহিক অবস্থার ছন্দপতন ঘটতে থাকে। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পরে মুসলিমরা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ফলে এ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর টিকে থাকে না। তবে কিছুকাল অবধি ওয়াক্ফ আর লাখেরাজের অর্থে কিছু প্রতিষ্ঠান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল। কিন্তু এসব সম্পত্তি বেদখল হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বিলুপ্ত হয়। তবে ধনী হিন্দুদের বদান্যতায় কিছু টোল বা চতুষ্পাঠি চালু ছিল। যা হোক, ১৮৩৫ সালে লর্ড বেন্টিঙ্ক ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তনে একটি আইন পাস করেন। তবু এই টাঙ্গাইল তথা ময়মনসিংহের পুরো অঞ্চলজুড়েই পুরোনো শিক্ষাপ্রথাই চলছিল নিস্তরঙ্গের মতো। কেননা ইংরেজি শিক্ষার অবকাঠামো আর বিস্তৃতি যেমন যথাযথ ছিল না, তেমনি পুরোনো প্রথার প্রতি কোনোরূপ প্রণাদনা না দিয়ে অন্তরায় তৈরি করা হয়েছিল।

রণদা প্রসাদ সাহার শৈশব ছিল উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুর সময়। এ সময়ে টাঙ্গাইলের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে এফএ সাকসির বিবরণী গুরুত্ববহ। সেকালের অধিকাংশ মক্তব ও মাদরাসা এলাকার সংগতিপন্ন ব্যক্তিরা স্থাপন করতেন। এখানে পাঠদানের জন্য নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে আসা মৌলভিরা শিক্ষা দিতেন। তাদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন-ভাতা ছিল না। তবে আহার ও বাসস্থানের সুবিধা তারা পেতেন। ১৯১১ ও ১৯২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী টাঙ্গাইল তথা ময়মনসিংহে সাক্ষরতার হার ছিল সর্বনিম্ন। যথাক্রমে ৪.৬ ও ৫.১১। উচ্চশিক্ষার অবস্থা ছিল আরও শোচনীয়।

উল্লেখ্য, আগেকার গ্রামীণ রীতির আর্থিক কাঠামো যখন ইংরেজরা ভেঙে দিল, সে সময় বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া মুক্তির কোনো উপায় ছিল না। উপরন্তু ইউরোপীয় ব্যবসা, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রবাহ এসে আছড়ে পড়ে। তাই বাংলা নিজেকে পরিবর্তন করবার নেশায় অস্থির হয়ে ওঠে। তবে এ মুক্তির জন্য শিক্ষা যে অনিবার্য প্রয়োজন, তা অনেকেই বুঝে নিয়েছিলেন। তবে যথাযথ শিক্ষাকাঠামো গড়ে তুলে সমাজের উন্নয়ন বা মুক্তিও অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেহেতু প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠী ছিল অতিশয় নাজুক, তাই তাদের পক্ষে বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষাকাঠামোর প্রয়োজন মিটমাট করা ছিল দুরূহ।

এ পরিস্থিতিতেও সবারই মুক্তি প্রচেষ্টা ছিল নিরন্তর। বলা হয়ে থাকে উনিশ শতকের পুরোভাগ জুড়েই নবজাগরণ বা মুক্তির সংগ্রাম চলছিল। অবিভক্ত বাংলার সমাজসংস্কারের এ আন্দোলনকে ইতিহাসে বাংলার ‘নবজাগরণের’ সময় বলা হয়। তখন বহু মনীষী আর কৃতী মানুষের জোয়ারও এ বাংলায় এসেছিল। তার মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ের (১৭৭৫-১৮৩৩) নাম সবার আগে চলে আসে। তারপরে এ জোয়ার বিশ শতকের শুরুর দিকে এসে তারুণ্য লাভ করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে (১৮৬১-১৯৪১) এই শেষের সময়ের কর্ণধার বলে থাকেন অনেকেই। তবে এ সময়টাতে বহুজনের বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা ছিল। এ সময় সমাজসংস্কার, ধর্মীয় দর্শনচিন্তা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, দেশপ্রেম ও বিজ্ঞানের চর্চা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছিল। ফলে ঘাত-প্রতিঘাতের সীমানা পাড়ি দিয়ে বাঙালি আধুনিক যুগে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

এ মুক্তি আন্দোলনে মানুষের মনে হরেক প্রশ্ন আসতে থাকে। জীবন ও বিশ্বাসে আসে পরিবর্তনের নেশা। বস্তুতান্ত্রিক চিন্তাবোধ মুখ্য হয়ে ওঠে। প্রতিবাদমূলক আন্দোলন, নানা সংগঠন, সমাজ ও সমিতির গোড়াপত্তন, ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, বাংলা সাহিত্যে নতুন শিল্প ও রূপশৈলী, নতুন ধারায় রাজনৈতিক চেতনাবোধ এ সময়ের সচেতন তারুণ্যকে উজ্জীবিত করে। প্রথম দিকে এ চেতনা উচ্চ স্তরের হিন্দুদের তাড়িত করলেও, শিগগিরই তা মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।

রামমোহন রায়, এইচ এল ভি ডিরোজিও ও তার বিপ্লবী শিষ্যরা, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তার অনুসারী, অক্ষয়কুমার দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ ছিলেন উনিশ শতকের এ আন্দোলনের পথিকৃৎ। যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ, উপযোগবাদ, বিজ্ঞানবাদ, ব্যক্তিবাদ, দৃষ্টবাদ, ডারউইনবাদ, সমাজবাদ ও জাতীয়তাবাদী পাটাতন তখন প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল।

এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল, শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, হিন্দু কলেজ, ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এ আন্দোলনের ফসল।

ইয়াং বেঙ্গলের অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশনের মতো আরও অনেক সমিতি গড়ে ওঠে। তাছাড়া এসব সমিতি বা গোষ্ঠী পার্থিনন, ইস্ট ইন্ডিয়া, ইনকুয়্যারার, জ্ঞানান্বেষণ, হিন্দু পাইওনিয়ার ও বেঙ্গল স্পেক্টেটরের মতো পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে।

বিশ শতকের শুরুর দিকে উনিশ শতকের জাগরণের প্রভাব পড়েছিল ত্বরিত গতিতে। ব্রিটিশ ভারতে বাঙালিরা এ সময় জাত্যাভিমানে শিক্ষা, দীক্ষা, যুক্তি-বিজ্ঞান আর ধর্ম-ঈশ্বর নিয়ে উচ্চমার্গীয় পরিশীলতার চর্চা করতে থাকে। অন্যদিকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলবাসী ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে চলে। ফলে আর্থিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ঘাটতির কারণে বাঙালিরা ইচ্ছা থাকলেও টেকসই উন্নয়নের পথে তেমন এগোতে পারেনি।

রণদা প্রসাদ সাহা ছিলেন একজন ‘অশিক্ষিত’ বা সামান্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ। তবে তিনি কলকাতায় যাওয়ার পরে ইংরেজি শিখেছিলেন। কিছু শিক্ষিত ছাত্র-যুবার সঙ্গে তার সখ্য হয়। এ সময় বঙ্গভঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলায় মেতে উঠেছিল। ফলে জাগরণ, মুক্তি, সংগঠন ও উন্নয়নের মতো চিন্তাবোধ তাকে তাড়িত করে। তিনি যোগ দেন স্বদেশি আন্দোলনে। তারপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। এখানে তিনি কাজী নজরুল ইসলামের মতো মুক্তিকামী, বিদ্রোহী ও জাগরণের কবির সাহচর্য পান। ভাবের আদান-প্রদান হতে থাকে আরও অনেক মানবতাবাদী, দেশপ্রেমিকের সঙ্গে। রণদা প্রসাদ সাহার জীবনে সেই প্রেরণা আর চিন্তাবোধ কীভাবে আচ্ছন্ন করেছিল, তা এ জীবনী গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

 

গবেষক, শেয়ার বিজ

mshelleyjuÑgmail.com