মুক্তিসংগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৮

২৫ মার্চ বিকাল ৩টা। কারও হাতে রঙের বালতি, কারও হাতে ব্রাশ। শহীদ মিনারের পাশে এভাবে জড়ো হয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। উদ্দেশ্য ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস স্বীকৃতির দাবিতে আলপনা অঙ্কন। বেলা সাড়ে ৩টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এসে অঙ্কন উদ্বোধন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের উদ্যোগে চারুকলা বিভাগসহ অন্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী এতে অংশ নেন। পরদিন দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীরা আলপনার কাজ শেষ করেন। আলপনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে শহীদ মিনার হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন পর্যন্ত চলে যায়। অন্যদিকে লাইব্রেরির সামনের রাস্তা হয়ে ট্রান্সপোর্ট ও চৌরঙ্গী পর্যন্ত আলপনা অঙ্কিত হয়। দেশের অন্যতম দীর্ঘ এই মুক্তিসংগ্রাম আলপনাটির দৈর্ঘ্য ২.৮ কিলোমিটার।

‘মুক্তির আলোয় আলোকিত করি ভুবন’এ স্লোগানে ২৫ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ চার দিনব্যাপী ‘মুক্তিসংগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৮’-এর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের আলোচনা সভা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জাগরণের গান, জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনয়ে নাটক ‘জেরা’। ২৬ মার্চ সকাল ৮টায় মানব পতাকা তৈরি ও সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশিত হয়। ২৮ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক গান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নাট্যদলের অভিনয়ে মঞ্চনাটক ‘রাজারবাগ ৭১’ মঞ্চস্থ হয়।

উৎসব নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিস্তার ও চর্চা একটি সহনশীল, উদার ও মানবিক পৃথিবী নির্মাণ করতে পারে। তাই উদ্যাপনের মাধ্যমে আমরা সংস্কৃতির রসে সিক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর উত্তরাধিকারকে ধারণ করে বাংলাদেশ সমৃদ্ধি ও সচ্ছলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

উৎসবের উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম।

উৎসবের অন্যান্য দিনের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ড. হাসান মাহমুদ এমপি ও একেএম এনামুল হক শামীম। মুজিবনগর সরকারের গার্ড অব অনারের নেতৃত্বদানকারী এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি

ডা. সারওয়ার আলী, কবি নির্মলেন্দু গুণ, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি ও এবাদুল করিম বুলবুল বিশেষ অতিথি ছিলেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী, সুজেয় শ্যাম, রথীন্দ্রনাথ রায়, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, সৈয়দ হাসান ইমাম, লায়লা হাসান, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী ও পান্না কায়সার।

 

আদীব মুমিন আরিফ