সম্পাদকীয়

মুদ্রানীতিতে সব পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ জরুরি

বাজারে অর্থের প্রবাহ কেমন থাকবে তার একটি প্রাক্কলিত তথ্য থাকে মুদ্রানীতিতে। সে অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য গত বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রানীতি নিয়ে সব পক্ষেরই একটা আশা থাকে, এবারও রয়েছে। এবারের মুদ্রানীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অবশ্য ব্যাপক মুদ্রার জোগান বাড়িয়ে-কমিয়ে প্রকৃত ও আর্থিক খাতে বাজার সুদহারকে প্রভাবিত করার বর্তমান কৌশল থেকে বেরিয়ে আসার একটি আভাষ এতে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন মুদ্রানীতি নিয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন এফবিসিসিআই। তারা বিশেষত সরকারি ঋণপ্রবাহ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘মুদ্রানীতির প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই: সরকারি ঋণ বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, সরকার ব্যাংক থেকে বাড়তি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করে এফবিসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, এবারের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে ধরেছে। এতে উৎপাদনশীল খাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কোনো ক্ষতি হলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণে এ খাত নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই।
মুদ্রানীতি মূলত ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্র করেই প্রণয়ন করা হয়। এতে সরকারি ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারও থাকে। কিন্তু ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সরকারের ঋণে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। এফবিসিসিআইও উদ্বেগের কথা জানাল। অবশ্য দেশে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে বেশি নিরাপদ মনে করে ব্যাংকগুলো। বেসরকারি ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় তাতে আগ্রহ কম। যদিও বেসরকারি ঋণের সদ্ব্যবহার হলে তার সুফল অনেক। বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে। কিন্তু সরকারি ঋণের চাহিদা বেশি থাকলে বেসরকারি ঋণ না পাওয়ায় বেশি বিনিয়োগ হবে না বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের উচ্চতর প্রবৃদ্ধি সংকুলানের সুযোগ রাখার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এছাড়া উচ্চতর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যবসাবান্ধব মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার বলে তারা মনে করে। এছাড়া বেসরকারি খাতগুলোর পুঁজিবাজার থেকে তাদের তহবিল সংগ্রহ করার কথা। তবে নানা কারণে বড় কোম্পানিগুলোর সিংহভাগকেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে পারেনি সরকার। তাদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

 

সর্বশেষ..