মুদ্রার অবমূল্যায়ন করায় চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: স্থানীয় শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক ধসের পর ইউয়ানের অবমূল্যায়ন ঘটিয়েছে চীন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন গতকাল বুধবার এ বিষয়ে চীনকে সতর্ক করে দিয়েছে। খবর এএফপি।
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), জি২০ ও বিশ্বব্যাংকের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চীন মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিযোগিতায় নেমেছে, এটা ঠিক নয়। আমরা চাই চীন এ কাজটা না করুক।
গত মঙ্গলবার চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ছয় দশমিক ৯০১৯ ইউয়ান নির্ধারণ করেছে। ফলে মুদ্রাবাজারে এক ডলারের বিপরীতে ছয় দশমিক ৯১২০ ইউয়ান পর্যন্ত বিনিময় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউয়ানের অবমূল্যায়ন রফতানিকারকের জন্য ইতিবাচক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মুদ্রাটির অবমূল্যায়নের ফলে সাংহাইয়ের ব্লু-চিপ সূচক দশমিক তিন শতাংশ বাড়তে দেখা গেছে। তবে এর আগের দিন চার দশমিক তিন শতাংশ পতন দেখা যায়, যা ২০১৬ সালের প্রথম দিকের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় পতন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই অভিযোগ করে আসছে চীন মুদ্রার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা নিচ্ছে, যেটা অনৈতিক। এর সূত্র ধরেই সম্প্রতি বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশ।
গত ছয় মাসে ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে শাস্তিমূলক শুল্ক ধার্য থাকার পরও চীনা পণ্য অনেকটা সস্তা হচ্ছে, যা তাদের রফতানি বাড়াতে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডলারের দাম চার শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর কারণে ডলারের মান বেড়ে যায়।
সাক্ষাৎকারে মুচিন বলেছেন, তারা চীনের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। আলোচনায় অর্থনীতির অন্য বিষয়ের সঙ্গে মুদ্রা অবমূল্যায়নের বিষয়টিও থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি আলোচনায় বসার কথা ছিল চীনের, কিন্তু সর্বশেষ ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে মার্কিন শুল্কারোপের পর বেইজিং আলোচনা বাতিল করে দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছে তারা আলোচনায় বসতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার কমিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন এ নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বা ৭৫ হাজার কোটি ইউয়ান যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং ও রফতানির আউটলুক এখন হুমকির মুখে। এ অবস্থায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির প্রবৃদ্ধির ওপর ক্রমে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি বছর চতুর্থবারের মতো ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার কমিয়েছে পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি)। বর্তমানে চীনের বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নগদ জমার হার ১৫ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যাংকগুলোর জন্য যা ১৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ। বাধ্যতামূলক অর্থ জমা রাখার হার কমলে পারস্পরিক এবং গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর হাতে আরও বেশি অর্থ থাকবে।