মুনাফা দেড়গুণ বাড়লেও অর্ধেকে নেমেছে লভ্যাংশ

লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ডিভিডেন্ড চমক!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগের বছরের চেয়ে গত সমাপ্ত হিসাব বছরে মুনাফা প্রায় দেড়গুণ বাড়লেও লভ্যাংশ প্রদানের হার প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে ‘লংকাবাংলা ফাইন্যান্স’। এদিকে বছরের ব্যবধানে লভ্যাংশ অর্ধেকে নেমে আসায় শেয়ারহোল্ডাররা হতাশ।

তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ এবং সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯২ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ছিল। ওই সময় কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফার হয়েছিল ৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ২ টাকা ৫০ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের মুনাফার বেড়েছে ১১৩ কোটি টাকার বেশি বা ১৪২ শতাংশ। অথচ লভ্যাংশের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব মোস্তফা কামাল কোনো কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অ্যাসিটেন্ট কোম্পানি সচিব জিয়াউর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘লভ্যাংশ কম দেওয়া পরিচালনা পর্ষদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। লভ্যাংশ কম ঘোষণা করলেও তো শেয়ার দর উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি।’

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, কিছুদিন আগে রাইট ইস্যু এবং সেই সঙ্গে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গত সমাপ্ত বছরে লভ্যাংশ আগের বছরের চেয়ে কম দিয়েছে।

এদিকে, এক বছরের ব্যবধানে লভ্যাংশ অর্ধেকে নেমে আসায় লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ারহোল্ডারদের অনেকে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করেছে। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ হাউজে ট্রেড করেন রনি সাহা। আলাপকালে তিনি বলেন, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের বিভিন্ন সময় দর টানা বেড়েছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ৬৯ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। আমি গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে তিন লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করি। আশা করেছিলাম ক্যাপিটাল গেইন না হলেও ডিভিডেন্ড গেইন হবে। কিন্তু লভ্যাংশ ঘোষণার আগে থেকেই দর কমছে। তাতে ক্যাপিটাল গেইন করতে পারিনি, এখন লোকসানে আছি। ভালো মুনাফা করেও লভ্যাংশ আগের বছরের চেয়ে অর্ধেক কম দেওয়ায় ক্ষতি হয়েছে। এই কোম্পানি থেকে এমনটা আশা করিনি।

জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স রাইট শেয়ার ছেড়ে মূলধন বাড়িয়েছে। কোম্পানিটি রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ১৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। ওই সময় রাইট শেয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে একাধিকবার দর বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির। গতকাল লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ার সর্বশেষ ৩৯ টাকা ৪০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার গত তিন দিন ধরে টানা কমছে।

পুঁজিবাজারে ২০০৬ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৭৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১টি। এরমধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার আছে।