মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই তিন কোম্পানির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড ও লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের। সম্প্রতি অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কোম্পানি তিনটি এমন তথ্য জানায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সম্প্রতি কোম্পানিটির অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। জবাবে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে জানায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

এসআইবিএল: গত মাসের ২৭ তারিখে কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ২৫ টাকা ৬০ পয়সা, যা গতকাল লেনদেন হয় ৩২ টাকায়। এ হিসাবে সাত কার্যদিবসে দর বেড়েছে ছয় টাকা ৪০ পয়সা। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

গতকাল শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বা দুই টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩২ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৩২ টাকা। দিনজুড়ে ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩৪টি শেয়ার মোট এক হাজার ২৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৮ কোটি ৩৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩২ টাকায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ১৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৩২ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি এসআইবিএল ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৫ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ১০ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ১৯ টাকা ২২ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৯১ পয়সা ও ১৮ টাকা ৪২ পয়সা।

ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক: গত মাসের ২৩ তারিখে কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ১৮ টাকা ৭০ পয়সা, যা গতকাল লেনদেন হয় ২৭ টাকা ২০ পয়সায়। এ হিসাবে ৯ কার্যদিবসে দর বেড়েছে আট টাকা ৫০ পয়সা। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

গতকাল শেয়ারদর এক দশমিক ৫০ শতাংশ বা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২৭ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৭ টাকা ২০ পয়সা। দিনজুড়ে দুই লাখ আট হাজার ৬১০টি শেয়ার মোট ২৬৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৫৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৯ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ১১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৯ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত ১৮ মাসের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয়-লোকসান করেছিল ৭৩ পয়সা এবং এনএভি ১৪ টাকা ৫৫ পয়সা।  কর-পরবর্তী লোকসান হয় ৭৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

মোট এক কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার তিনটি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৩২ দশমিক ১৫ শতাংশ ও ৪৬ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

লিগ্যাসি ফুটওয়্যার : গত মাসের ২৭ তারিখে কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা, যা গতকাল লেনদেন হয় ৪৮ টাকা ৮০ পয়সায়। এ হিসাবে সাত কার্যদিবসে দর বেড়েছে ১৪ টাকা। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

গতকাল শেয়ারদর তিন দশমিক ৮৮ শতাংশ বা এক টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৪৮ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা। দিনজুড়ে তিন লাখ ৮৪ হাজার ৫৫৩টি শেয়ার মোট ৫৬৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৪৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ১৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।