মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বিডি অটোকারসের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বাংলাদেশ অটোকারস লিমিটেডের। সম্প্রতি অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কোম্পানিটি এমন তথ্য জানায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সম্প্রতি কোম্পানিটির অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। জবাবে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে জানায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গত ৩ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১১৯ টাকা ২০ পয়সা, যা গতকাল লেনদেন হয় ২৫৭ টাকা ৯০ পয়সায়। এ হিসাবে ১১ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১৩৮ টাকা ৭০ পয়সা। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।
গতকাল শেয়ারদর আট দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ২০ টাকা ৭০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২৫৭ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ২৫৭ টাকা ৯০ পয়সা। দিনজুড়ে ৫৯ হাজার ৪২১টি শেয়ার মোট ২০৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ৫২ লাখ টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর ৭৯ টাকা থেকে ২৫৭ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে।
৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি তিন শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দুই টাকা ৮৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
কোম্পানির ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন তিন কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে ঘাটতির পরিমাণ দুই কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে তিন শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। এই সময় ইপিএস করেছিল ৪১ পয়সা এবং এনএভি হয়েছিল ছয় টাকা ৪৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে ১৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল তিন পয়সা। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি হয়েছে তিন টাকা তিন পয়সা, এটি আগের বছর ছিল পাঁচ টাকা ২৯ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ২৭ পয়সা এবং ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১০ লাখ ৩০ হাজার, যা তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৪০ পয়সা এবং ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
কোম্পানির মোট ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ৫১২টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সাত দশমিক ৪৬ শতাংশ ও ৫৪ দশমিক ২৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।