মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট

শান্ত ছিমছাম পরিবেশ। চারপাশে পাখির কলতান। গ্রামীণ চিত্রের মতো সবুজ শ্যামল। অপরূপ। বলছি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্টের কথা।

মেঘনা সেতুর কাছাকাছি রিসোর্টটির অবস্থান। ৩০ বিঘা জমির ওপর ফুলফল ও বৃক্ষশোভিত এক অনন্য বিনোদন কেন্দ্র মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট। কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা অনেকে এখানে খোঁজেন প্রশান্তির ছায়া। অল্প সময়ের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে এখানে বেড়াতে পারেন। পরিবারের সবাই মিলে ঘুরে আসতে পারেন।

মেঘনা রিসোর্টে প্রথমে দেখতে পাবেন কয়েকটি হাতি, বাঘ ও হরিণের ভাস্কর্য। এরপর প্রধান ফটক। প্রবেশপথে একটি ডাইনোসরের ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়। ভেতরে প্রবেশ করে এর সঠিক সার্থকতা দেখতে পাবেন। পুরো জায়গাজুড়ে নানা আয়োজন রয়েছে। গাছবিহীন কোনো জায়গা নেই। গাছগুলোর গায়ে গাছের পরিচিতি লেখা রয়েছে।

বিনোদন ও অবকাশযাপনে পরিপূর্ণ আনন্দ পেতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্র, লন্ড্রি, শপ ও নিজস্ব গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। আরও আছে বারবিকিউ, বাংলা ও চায়নিজ খাবারের ব্যবস্থা। এখানে দলবেঁধে অনেকে পিকনিকের আয়োজন করেন। রয়েছে খেলার দুটি সুবিশাল মাঠ। ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে পারবেন নির্দ্বিধায়। যারা মাছ ধরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে মাছ ধরার ব্যবস্থা। এছাড়া পেন্ডুলাম পাইরেট শিপ, প্যাডেল বোট, নাগরদোলা, মেরিগো রাউন্ড, সাইকেল চালনা, ব্যাটারি কার ও মিকি মাউস বাইক তো আছেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচগান দেখার জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের রয়েছে নিজস্ব জামদানি তাঁত ও মিষ্টির কারখানা। সবজিক্ষেতও রয়েছে। চাইলে জামদানি পণ্য ও মিষ্টি কিনতে পারেন।

হাতির পাল, যুধ্যমান ষাঁড়, ভল্লুক, বিশাল ডাইনোসর, বাঘ, হরিণ, সাপ-বেজির লড়াই, রাজহংসী, বাচ্চাসহ জিরাফের ভাস্কর্য রয়েছে এখানে। রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানাও। চিত্রাহরিণ, বানর, লজ্জাবতী হনুমান, কালিম পাখি, খরগোশ, কোয়েল পাখি ও কুমির, মায়াবী ময়ূর, টিয়ে, লাভ বার্ডস, বেজী, রাজহাঁস, তিতির, অ্যাকুয়ারিয়াম, ফিশ প্রভৃতি রয়েছে এ চিড়িয়াখানায়।

শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু-কিশোর কর্নারÑকম্পোসিলিন্ডার সøাইড, সাধারণ সøাইড, দোলনা, ভিডিও গেম, ইলেকট্রিক গাড়ি, বাইসাইকেল, ট্রাইসাইকেল প্রভৃতি।

এখানে রয়েছে ক্যাজওয়ে ব্রিজ, গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, পিকনিক কিচেন, স্ন্যাক্স কর্নার ও কফি শপ। বটতলা, ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও সুইমিং পুল রয়েছে। ২০ দর্শক একসঙ্গে বসে থ্রিডি সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিদিন তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। একসঙ্গে এত আয়োজন খুব কম রিসোর্টে দেখা যায়।

মেঘনা রিসোর্টে অবকাশযাপনকারীদের জন্য রয়েছে এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের কটেজ। কটেজগুলো ভিন্নভাবে তৈরি করা হয়েছে। দেখতে অনেকটা নেপালি বাড়িঘরের মতো। কটেজগুলোর সামনে রয়েছে ফুলশোভিত বাগান।

নিরাপদ এই অবকাশ যাপনকেন্দ্রটি আসলে বাগানবাড়ির আদলে তৈরি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে রান্না করা এখানকার খাবারগুলোয় পাওয়া যায় ঘরোয়া খাবারের পরিপূর্ণ স্বাদ। রাতের বেলায় যারা চাঁদ দেখতে ভালোবাসেন তারা ঘুরে আসতে পারেন রাজধানীর সন্নিকটে মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট থেকে।

খরচ

প্রাপ্তবয়স্কের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। শিশুদের ১০ টাকা। রাত্রিযাপনের জন্য নন-এসি ছোট কক্ষ দুই হাজার ৩০০ টাকা, নন-এসি বড় কক্ষ দুই হাজার ৯০০ টাকা। এসি ডিলাক্স চার হাজার ২৫ টাকা। এসি প্রিমিয়াম চার হাজার ৬০০ টাকা। এসি ভিআইপি পাঁচ হাজার ২০০ টাকা। রিসোর্টে থাকার জন্য শিশুসহ পাঁচজনের প্যাকেজ আট হাজার টাকা। মাছ ধরার চার্জÑএক কেজি ওজনের রুই ৩০০ টাকা ও তেলাপিয়া প্রতিটি ৫০ টাকা। এছাড়া করপোরেট হাউজ পিকনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পিকনিকের জন্য আলাদা চার্জ রয়েছে। নন-হলিডে ডিসকাউন্ট ২৫ শতাংশ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রিসোর্টের কটেজগুলো ভাড়ার জন্য বুকিং দিতে পারবেন।

 

যাওয়ার পথ

রাজধানী থেকে কাঁচপুর ব্রিজ ও মেঘনা ব্রিজ পেরিয়ে বালুকান্দি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাঁ দিকের পথ ধরে এক কিলোমিটার এগোলেই রিসোর্টটি।

শিপন আহমেদ