মেয়াদোত্তীর্ণ এনজিওতে থাকুক সতর্ক দৃষ্টি

সহযোগী একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি অনুদান নিয়ে কাজ করা এনজিওর প্রায় ৩০ শতাংশেরই নিবন্ধন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে এখন। এর মধ্যে অনেকগুলো আবার অস্তিত্বহীন। এক থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মেয়াদ না থাকা এসব এনজিও কী করছে, সে ব্যাপারেও কিছুই জানে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো। এ খবর উদ্বেগের। বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত একশ্রেণির এনজিওর জঙ্গিবাদসহ অর্থ পাচারের মতো কার্যক্রমে সমম্পৃক্ততার বিষয় কারও অজানা নয়। আমরা মনে করি, একসময় দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এসব এনজিওর প্রকৃত অবস্থা এখন কী, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেওয়া দরকার; তাদের আনা চাই উপযুক্ত তদারকির আওতায়। যেসব এনজিও এরই মধ্যে হয়ে পড়েছে অস্তিত্বহীনÑআড়ালে তারা ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। শিগগিরই এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।

বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন আইন, ২০১৬ অনুসারে কোনো এনজিওকে নিবন্ধন দেওয়া হয় দশ বছরের জন্য। এ সময় অতিক্রান্ত হলে তার নিবন্ধন নবায়নের বিধান রয়েছে ওই আইনে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওর মধ্যে এমন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যেটি গত ৩২ বছরে নিবন্ধন নবায়ন করেনি। গত দুই দশকে নিবন্ধন নবায়ন করেনি, এমন এনজিওর সংখ্যা ৬০টি। দেড় দশকেরও বেশি সময়ে নবায়ন করেনি, এমন প্রতিষ্ঠান শতাধিক। সংবাদপত্রে প্রকাশিত এসব তথ্য খাতটিতে তদারকির দুর্বলতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঠিক কী কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে পরিপালনের আওতায় আনতে পারেনি, সেটিও বড় প্রশ্ন। আমরা চাইব, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এরও সদুত্তর খোঁজা হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে জনবল বা অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে যদি এটি হয়ে থাকে, সেই চাহিদা পূরণের কার্যকর পদক্ষেপও দেখতে চাইব আমরা।

অর্থায়নের উৎস যা-ই হোক না কেন, একশ্রেণির মানুষ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এনজিও গড়ে তুলেছে অতীতে। এ প্রবণতা যে এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে, তাও নিশ্চিতভাবে বলার উপায় নেই। এমন কার্যক্রম থেকে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিরত রাখতে তাদের যথাযথভাবে তদারকির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কোনো প্রতিষ্ঠানের যদি নিবন্ধনই না থাকে, তাহলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে কীভাবে? বস্তুত বিশেষ উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রে তদারকির মধ্যে থাকতে অনীহা দেখায়। অনুদান হিসেবে বিদেশ থেকে আসা অর্থ কোনো কোনো এনজিও কীভাবে খরচ করে, তা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উচিত হবে এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর মনোভাব দেখানো। ভুলে গেলে চলবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে কিছু এনজিও ভূমিকা রেখে চলছে সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়নে। স্বভাবতই তাদের উৎসাহ জোগাতে হবে কাঠামোগতভাবে। এ বিষয়ে সরকারের গৃহীত যথাযথ পদক্ষেপ এনজিওগুলোর মধ্যে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলেই মনে হয়। এটি দেশের উন্নয়নকেই ত্বরান্বিত করবে।