বাণিজ্য সংবাদ

মোটরগাড়ি উৎপাদন শিল্পে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে অটোমোবাইল-শিল্পের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, দেশেই মোটরগাড়ি তৈরি করে এ বাজার ধরে রাখতে হবে। আমদানি করা গাড়ির ওপর নির্ভরশীল হয়ে এ বাজার অন্যের হাতে তুলে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের মোটরগাড়ি উৎপাদন-শিল্পে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ১৪তম ঢাকা মোটর শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সেমস গ্লোবাল তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। মোটর শো’র পাশাপাশি একই ছাদের নিচে পঞ্চম ঢাকা বাইক, চতুর্থ ঢাকা অটো পার্টস ও তৃতীয় ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো’র আয়োজন করা হয়।
সেমস গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট মেহেরুন এন ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরইএল মোটরস লিমিটেডের এমডি রিয়াদ হাসনাইন, র‌্যাংকন মোটর বাইকস লিমিটেডের এমডি শাওন হাকিম, এনার্জি প্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের পরিচালক এনামুল হক চৌধুরী ও কর্ণফুলী গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আনিস-উদ-দৌলা বক্তব্য রাখেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ইস্ট পাকিস্তান স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (ইপসিক) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে শিল্পায়নের বীজ বপন করেছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠান ‘বিসিক’ নামে সারা দেশে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রেখে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিল্প খাত এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বসম্প্রদায়ের জন্য উন্নয়নের অনুকরণীয় মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী অত্যাধুনিক অটোমোবাইল-শিল্প বিকাশের ফলে আমদানি করা রিকন্ডিশনড গাড়ি খুব শিগগিরই বাজার হারাবে। এর ফলে বাংলাদেশে রিকন্ডিশনড গাড়ি ডাম্পিংয়ের জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এ বাস্তবতায় তিনি গাড়ি সংযোজন কিংবা আমদানির পরিবর্তে নিজস্ব ব্র্যান্ডের গাড়ি উৎপাদনের তাগিদ দেন। এ খাতে দেশীয় শিল্পপতি বানাতে শিল্প মন্ত্রণালয় জায়গা বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এ বহুমাত্রিক প্রদর্শনীতে ১৬ দেশের আড়াই শতাধিক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এতে অটোমোবাইল শিল্প খাতে উদ্ভাবিত সর্বশেষ ডিজাইনের মোটরবাইক, স্কুটারস, গাড়ি, স্পোর্টস ইউটিলিটি, মাল্টিইউটিলিটি ও বাণিজ্যিক যানবাহন, বাস, ট্রাক, থ্রি হুইলার, বিকল্প শক্তিচালিত যানবাহন প্রভৃতি প্রদর্শিত হচ্ছে।
পাশাপাশি এসব যানবাহন-সংশ্লিষ্ট খুচরা যন্ত্রাংশ, গ্যারেজ ও গ্যারেজ সরঞ্জাম, বিমা ও পরিসেবা, অটোফাইন্যান্স ও লিজিং, আইটি ও লুব্রিক্যান্টস, সিএনজি কিট, টায়ার ও হুইল, ডিজাইন ধারণা, অটো ইলেকট্রনিক ডিজাইন তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উম্মুক্ত থাকবে।

সর্বশেষ..