মোটরবাইক ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধ হোক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও শুক্রবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে রাস্তায় বাস চলাচল ছিল সীমিত। এতে স্বাভাবিকভাবেই ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। এটি আরও বাড়িয়ে তুলেছে রাইড শেয়ার করা কিছু বাইকার। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া চাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে সাধারণ মানুষ এতে উঠছে। ‘গণপরিবহন বন্ধে জমজমাট বাইক ভাড়ার ব্যবসা’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে এ চিত্র তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বাইকাররা ডেকে ডেকে যাত্রী খুঁজছেন আর চুক্তিতে যাচ্ছেন গন্তব্যে। তাদের অনেকেই বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং কোম্পানির রাইডার। এক্ষেত্রে সার্ভিসগুলোর অ্যাপ ব্যবহার করছেন না তারা। এতে একদিকে অ্যাপের চুক্তির চেয়ে ভাড়া বেশি পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে কোম্পানিকে কমিশনও দিতে হচ্ছে না। অ্যাপভিত্তিক কার সার্ভিসেও যাত্রীরা একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেওয়া নৈতিকতাবিরোধী। এটা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ সুবিধা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর জন্যও বড় সমস্যা। বিপুল পরিমাণ কমিশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। এতে সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে। রাইড সার্ভিসগুলোর উচিত বিশেষ পরিস্থিতিতে যাত্রীসেবা বৃদ্ধিতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বেশি মনোযোগী হওয়া। এতে নতুন সেবা খাত হিসেবে তাদের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ত।
বস্তুত কোনো বাইকার বা চালক যাতে এ সুযোগে যাত্রী হয়রানি করতে না পারে, এটা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। এজন্য কিছু পদক্ষেপ তারা নিতে পারে। দেখা গেছে, বাড়তি ভাড়া পাওয়ার জন্য অনেক চালক অ্যাপ বন্ধ রাখছেন। সড়কে যানবাহন স্বল্পতার সময় চাইলেই অ্যাপ বন্ধের সুযোগ থাকলে এসব অনাচারের সম্ভাবনা রয়ে যায়। রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে চালক কর্তৃক অ্যাপ বন্ধের কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। কোম্পানি এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে পারে। বাধ্যবাধকতা জোরদার করতে পারে। যাত্রীদেরও সজাগ হতে হবে। তাদের উচিত বাড়তি ভাড়া দাবি করলে সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং চালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো। অনেকে অবশ্য এটি করছেন। এ প্রবণতা বাড়তে হবে। কর্তৃপক্ষকেও এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনেক অপেশাদার বাইকারকেও দেখা গেছে বাড়তি ভাড়ার চুক্তিতে যাত্রী তুলতে। এটি আমাদের মানসিকতার সমস্যাও। এসব বাইকার বিরূপ পরিস্থিতিতে বরং মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে পারেন। ন্যায্য ভাড়ায় রাইড সেবা দিতে পারেন। সড়কে এখন যানজট কম। ফলে অল্প সময়ে বেশি ট্রিপ দিয়ে অনায়াসেই বেশি আয় করতে পারেন তারা। বাস্তবতা হলো, দেশে মন্দ পরিস্থিতি চলাকালে একইসঙ্গে বিভিন্ন মাত্রার নৈরাজ্যের উদ্ভব হয় আর মানুষের ভোগান্তিও হয় বহুমুখী। এসব সমস্যা দূর করতে পরিবহন খাতে সার্বিক সুশাসনও প্রয়োজন। সেজন্য আইনে সংস্কার আনার দাবিও তাই এখন জোরালো। পাশাপাশি বাজেভাবে সুযোগ গ্রহণের মানসিকতা যত দ্রুত বদলায়, ততই মঙ্গল।