মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

দেশে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ব্যাংক হিসাবধারীর কাছাকাছি। ব্যাংকে লেনদেনকারী গ্রাহকের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত হলেও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রতারিত হলেও ক্ষেত্রবিশেষে তা উদ্ধারে ভূমিকা রাখছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমছে  না। রোববার রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব কথা উল্লেখ করেছেন বক্তারা। তাদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ তেমন নেই। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের আস্থা কমে যেতে পারে; তাতে এ ব্যাংকিং সেবার বিকাশ হতে পারে বাধাগ্রস্ত। এজন্য মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কেউ প্রতারণার শিকার হলে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পদক্ষেপ নেয়, সে ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামোগত বাধ্যবাধকতা কাম্য।

বস্তুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যে ধরনের প্রতারণার খবর পাওয়া যাচ্ছেÑশুধু প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এগুলো রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য গ্রাহকদেরও হতে হবে সচেতন। অনেক সময় দেখা যায়, লোভে পড়ে প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে বিপদ ডেকে আনেন অনেকে। গ্রাহকরা সচেতন হলে এমন সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রচারণাও মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আমরা প্রত্যাশা করি। প্রতারকদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে একই সঙ্গে। এটা করা না গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা যাবে না এবং সেক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধ ঠেকানো কঠিন। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিকাশ হয়েছে অনেক দেশের তুলনায় দ্রুততার সঙ্গে। এ অবস্থায় গ্রাহকের নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ভাবতে হবে সঙ্গত কারণেই। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দিক থেকে যেসব দেশ উন্নতি করেছে, এক্ষেত্রে প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা যেতে পারে।

মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করেছে, তার সবগুলো বাজারে আসেনি এখনও। কিছু প্রতিষ্ঠান বাজারে থাকলেও ব্যবসা বিস্তারে ততটা মনোযোগী নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, ঠিক কী কারণে এমনটি করছে ওইসব প্রতিষ্ঠান? সেটা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি চিন্তা করেই কি না, আমরা জানি না। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান এই সেবা বিস্তারে তৎপর, তাদেরও কিছুটা ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। মনে রাখা চাই, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ ছাড়া কোনো ব্যাংকিং সেবার ব্যাপক বিস্তার ঘটলে দুর্জনরা তার সুযোগ নেয়। এ মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অর্থ লেনদেন করা যায়। কথা হলো, লেনদেনের সময় বাঁচাতে গিয়ে অর্থের নিরাপত্তা যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েÑকোনো গ্রাহক তা মেনে নেবেন না। এ কারণেও সেবাটির প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে অনেকের। এজন্য এই সেবা গ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দিকেই এখন মনোযোগ দিতে হবে সবার আগে।