সম্পাদকীয়

মোবাইল ব্যাংকিং বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করুন

মোবাইল ব্যাংকিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০১০ সাল থেকে সেবাটি বাংলাদেশে চালুর পর ইন্টারনেটচালিত অ্যাপস কিংবা মোবাইল ফোনের আনস্ট্রাকচারর্ড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা (ইউএসএসডি) ব্যবহার করে গ্রাহকরা তাদের হিসাব স্থিতি জানতে ও লেনদেন চালাতে এতদিন কোনো মাশুল দেয়নি। তবে এখন থেকে লেনদেন কিংবা স্থিতি জানার ৯০ সেকেন্ডের প্রতিটি ইউএসএসডি সেশনে সার্ভিস চার্জ বা মাশুল গুনতে হবে। কিন্তু স্থিতি জানতে এ মাশুল কে পরিশোধ করবে, সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এখন থেকে এই নিয়মের অধীনে আসবে বলে গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ওয়েবসাইটের বরাদ দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নির্দেশনামতে, যারা মোবাইল কোম্পানির ইউএসএসডি কোড ব্যবহার করে স্থিতি জানবে, তাদের ৪০ পয়সা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এই চার্জ মূল গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স থেকে কেটে নেওয়া হবে, নাকি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হবে সে বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। তবে এমএফএস অপারেটররা যেহেতু মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, তাই সার্বিকভাবে তাদের মাশুল পরিশোধে বাধ্যবাধকতা থাকবে বলে যুক্তি দেখানো হয়েছে। ফলে জনমনে একটি অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। কেননা লেনদেনের মাশুল অপারেটরদের দেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টতা থাকলেও স্থিতির ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা না থাকায় হয়তো মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো এই মাশুল শেষ অবধি গ্রাহকদের ওপরই চাপাবে। তবে মোবাইল ফোন কোম্পানি রবির গ্রাহকদের কোনো মাশুল দিতে হবে না বলে প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিলেও অন্য অপারেটরদের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি। তাই অতি শিগগিরই এ ব্যাপারে খোলামেলা বক্তব্য দেওয়া বিটিআরসি ও রাজস্ব বোর্ডের ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশ এ উদ্বিগ্নতা নিরসনে নিজেরাই বিটিআরসি ও রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে স্থিতি জানার এই মাশুল প্রকৃতপক্ষে কোথা থেকে কাটা হবে।
মোবাইল আর্থিক সেবায় নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগে গ্রাহকরা প্রায়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। অনেকেই এখন তাদের অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা স্থিতি রাখতে সাহস পাচ্ছে না। এর মধ্যে নতুন করে এই অস্পষ্টতা এই খাতকে আরেকটি সংকটে ফেলতে পারে। তাই আশা করা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই বিটিআরসি ও রাজস্ব বোর্ড এ ব্যাপারে পরিষ্কার জবাব দিয়ে অস্পষ্টতা নিরসনে এগিয়ে আসবে।

সর্বশেষ..