মোহাম্মদ ওমর ফারুক

মীনা অ্যাওয়ার্ড আর মোহাম্মদ ওমর ফারুক হয়ে উঠেছেন সমার্থক চারবার অ্যাওয়ার্ডটি জিতেছেন তিনি। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন ওমর ফারুক।
শৈশব কেটেছে গ্রামের অন্য ১০টি ছেলের মতো। বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি, দৌড়ঝাঁপ, সাইকেল চালিয়ে আর পুকুরে সাঁতার কেটে পার করে দিতেন পুরোটা দিন। পড়াশোনায় কিছুতেই মন বসত না তার। একে একে পরিবর্তন করেছেন ১৪টি স্কুল। হয়তো অনেকেই ভেবেছিলেন এ ছেলেকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। কিন্তু এ ছেলেই একদিন সবাইকে চমকে দিয়ে দেশের অন্যতম নামকরা রিপোর্টার হবেনÑএমনটি হয়তো কেউ ভাবেননি।
কুমিল্লা শহরে লেখালেখির শুরুটা। বর্তমানে ফিচার লিখছেন নিয়মিত। ফিচার রিপোর্টিং করেও তিনি অনেক স্পর্শকাতর বিষয়ের ওপর কাজ করে তাক লাগিয়েছেন। প্রমাণ করেছেন, সাংবাদিকতা মিশে আছে তার রক্তে। সদা হাস্যোজ্জ্বল ওমর নিজের কাজকে নিয়ে গেছেন অন্য মাত্রায়, প্রমাণ করেছেন মেধা, পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় সবই সম্ভব। সাংবাদিকতা জগতে ছুটে চলেছেন দুরন্ত গতিতে। মানবিকতা, সচেতনতা ও দেশের কল্যাণেই সাংবাদিকতা এমন বিশ্বাসেই এগিয়ে। তুলে ধরছেন সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কষ্টগুলো। সাংবাদিকতা করে মানুষের জন্য যে কিছু করা যায়, সেটাই দেখিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকতার শুরুর গল্পটা কীভাবে জানতে চাইলে ওমর ফারুক জানান, নিজের লেখার পাশাপাশি অন্যের লেখা প্রকাশের জন্য সংবাদভিত্তিক ম্যাগাজিন মাসিক বিশ্বের আলো বিশ্বকণ্ঠ সম্পাদনা দিয়ে শুরু হয় সাংবাদিকতা। ১৪ কি ১৫ সে বয়সেই সম্পাদক বনে যান! পরে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান কুমিল্লার স্থানীয় সাপ্তাহিক কুমিল্লার আলো ও দৈনিক আমাদের কুমিল্লায়।
সাংবাদিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ শিশুদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে সেরা রিপোর্টার হিসেবে চারবার পেয়েছেন ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। পেয়েছেন বিএফটিএসএসি অ্যাওয়ার্ড ২০১১। ২০১৫ সালে তৃতীয় লিঙ্গদের নিয়ে কাজ করে পেয়েছেন বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৫সহ সেরা রিপোর্টার হিসেবে ৯টি অ্যাওয়ার্ড। ওমর মূলত পলিটিক্যাল ইন্টারভিউ, নারী, শিশু, শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়, তরুণ প্রজš§, অর্থনীতি, তৃতীয় লিঙ্গ, সংখ্যালঘু, সমকামীর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করছেন।
বর্তমানের মতো আগামীতেও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চান ওমর।

বেনজির আবরার