মৌলভিত্তিসম্পন্ন সব খাতের পতনে শীর্ষে ব্যাংক

সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার

শেখ আবু তালেব: দীর্ঘ পতনের ধারায় চলছে পুঁজিবাজারের মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর। একটানা তৃতীয় সপ্তাহেও পতনের মাধ্যমে লেনদেন শেষ করেছে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক খাত। গত সপ্তাহ শেষে মৌলভিত্তিসম্পন্ন সব খাতেরই পতন হয়েছে। শেয়ার বিক্রির চাপে দরপতনের প্রভাবে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকেরও পতন হয়েছে।
ডিএসইর খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহ শেষে দেশের প্রধান বাজার ডিএসইর তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলো এমন আচরণ দেখিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সদ্য শেষ হওয়া সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র তৃতীয় দিনের লেনদেনে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ইতিবাচক ধারায় শেষ হয়। বাকি চারদিনই নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে প্রধান এ বাজারটি। লেনদেন শেষে দেখা যায়, সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৩ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক তিন শতাংশ হারায় আগের সপ্তাহের চেয়ে।
জানা গেছে, লেনদেন বাড়ায় গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহের চেয়ে বাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮ শতাংশ বেশি। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটানা তিন সপ্তাহ ধরেই ব্যাংক খাতের শেয়ারের পতন চলছে ধারাবাহিকভাবে। গত সপ্তাহ শেষে চার দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়ে পতনের শীর্ষে উঠে আসে ব্যাংক খাত। এই সময়ে অন্যান্য সব মৌলভিত্তিসম্পন্ন খাতেরও দরপতন ঘটে। দরপতনের চাপে টানা দুই সপ্তাহ ধরে গেইনারের শীর্ষে থাকা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানির শেয়ারদরও পতনে চলে যায় গত সপ্তাহে। এ সময়ে অন্যান্য খাতের মধ্যে চামড়া খাতের কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ দর হারায়, যা শতাংশ হিসাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
গত সপ্তাহে লেনদেনের সংখ্যা ও আকার দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৪৬টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পায় ১০৫টির, কমে ২২০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি সিকিউরিটিজের দর। আগের সপ্তাহে ৩৪৫টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করলেও দর বৃদ্ধি পেয়েছিল ১০৮টির, দরপতনে ছিল ২১৪টি ও অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির শেয়ারদর।
লেনদেনের খাতভিত্তিক তথ্যে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগের সপ্তাহে যেখানে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ শতাংশ অবদান রেখেছিল প্রকৌশল খাত, সপ্তাহে তা দাঁড়ায় ২২ শতাংশে। ব্যাংক খাত আট শতাংশ থেকে নামে পাঁচ শতাংশে। আগের সপ্তাহে ১৯ শতাংশ লেনদেনে থাকা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের লেনদেন ছিল ১৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন ছিল মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশ, আগের সপ্তাহে যা ছিল আট শতাংশে।
একক কোম্পানি হিসাবে গত সপ্তাহের লেনদেন শেষে গেইনারের শীর্ষে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর গত সপ্তাহে ৪৮ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরই রয়েছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক। কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এছাড়া ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মুন্নু সিরামিক।
অন্যদিকে আলোচিত সময়ে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। কোম্পানিটি সপ্তাহ শেষে দর হারিয়েছে ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ার শেয়ারদর হারিয়েছে ১৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ সময়ে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ দর হারিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১। গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে অ্যাকটিভ ফাইন।