সম্পাদকীয়

যত্রতত্র তামাকের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করুন

বিশ্বে হৃদরোগ, ক্যানসার, বক্ষব্যাধি এবং অন্যান্য অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং মৃত্যুর অন্যতম কারণ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, তামাক সেবনের ফলে প্রতি বছর বিশ্বে ৭০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশে প্রতি বছর মারা যায় এক লাখ ৬০ হাজার ২০০ মানুষ। ২০১৭ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুসারে বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৪৩ শতাংশ মানুষ।
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সারা বিশ্বে সমন্বিতভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল বা এফসিটিসি চুক্তি অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ এই চুক্তির প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে এবং পরে ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। এ আইনে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে রক্ষায় জনসমাগমের স্থানে ধূমপান করলে অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, ধূমপানই একমাত্র নেশাজাতীয় দ্রব্য, যেটি গ্রহণ না করে কেবল ধূমপায়ীর কাছে থাকলে ক্ষতির শিকার হতে হয়।
বিদ্যমান আইনে বলা হয়েছে, তামাকজাত দ্রব্যের মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উভয় পার্শ্বে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ পরিমাণ স্থানজুড়ে এটি ব্যবহারের সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে, রঙিন ছবি ও লেখা সংবলিত, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলায় মুদ্রণ করতে হবে। যেমন ধূমপানের কারণে গলায় ও ফুসফুসে ক্যানসার হয়, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়, স্ট্রোক হয়, হৃদরোগ হয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয় প্রভৃতি।
ধূমপান নিরুৎসাহকরণে এত আইন থাকলেও গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নাগরপুরে তামাক বেচাকেনার অস্থায়ী হাট’ শীর্ষক সচিত্র প্রতিবেদন সাধারণ মানুষকে হতাশ করবে বলেই ধারণা।
খবরে বলা হয়, ক্ষতির কথা জেনেও সিগারেট, বিড়ি ও জর্দা কোম্পানির প্রলোভনে বেশি লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী হাট বসিয়ে বেচাকেনা চলছে তামাকের। একটি কোম্পানিই এখান থেকে এ বছর ১৫০ টন তামাক কিনবে। এ থেকে বোঝা যায়, তামাক চাষ কতটা বেড়েছে।
আমরা মনে করি, ‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ’-এর মাধ্যমে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তামাকের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। কৃষক যাতে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্য ফসল চাষে প্রণোদনা দিতে হবে।

সর্বশেষ..