যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায় কাম্য

সৌদি আরবের জিজানে সড়ক দুর্ঘটনায় যে ১০ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, দেশে তাদের পরিবারে এখন বইছে শোকের মাতম। আহতদের পরিবারও রয়েছে উদ্বেগের মধ্যে। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাই। স্বজন হারানো শোকের কোনো সান্ত¡না হয় না। তবু আশা করব, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ধৈর্য ধারণ করবেন। আহত হয়ে দেশটির হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন, প্রত্যাশা করি দ্রুতই তারা ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে। স্বজনদের কেউ কেউ যেন সেখানে গিয়ে তাদের দেখভাল করতে পারেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসে থাকা এসব মানুষ ক্ষেত্রবিশেষে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের পড়তে হবে সংকটে। আমরা চাইব, এ অবস্থায় সরকারও থাকবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে। তাহলে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজতর হবে তাদের জন্য। ব্যাংকঋণ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা যায় অনেকের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন কিনা জানি না। এমনটি হয়ে থাকলে এক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ বিবেচনাও আমরা প্রত্যাশা করব।

সড়ক দুর্ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন ওইসব বাংলাদেশি যাচ্ছিলেন কর্মস্থলে। এক্ষেত্রে তাদের বিমা সুবিধা পাওয়ার কথা। গোষ্ঠীগত বিমা সুবিধাও রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। যে প্রতিষ্ঠানের অধীনে এসব বাংলাদেশি কর্মরত, সেটি কর্মীদের এমন সুবিধা জোগায় কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। মনে রাখা ভালো, দাবি না করলে নিয়োগপত্রে উল্লেখ থাকলেও এ ধরনের সুবিধা অনেক সময় কর্তৃপক্ষ দিতে চায় না। যেহেতু দেশে থাকা স্বজনদের পক্ষে ওখানে গিয়ে এমন দাবি আদায় কষ্টসাধ্য, সেজন্য এ দায়িত্ব নিতে হবে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসকে। কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন বাংলাদেশের উচ্চ আদালত। ওখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসে এ দায়িত্বে নিযুক্ত কর্তাব্যক্তিদের উচিত হবে স্থানীয় বিধিবিধান খতিয়ে দেখা। প্রবাসে বাংলাদেশিদের স্বার্থ সুরক্ষার দায়িত্ব রয়েছে তাদের। এ পরিস্থিতিতে বিশেষত নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানো, আহতদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান, আদালতে মামলা দায়ের ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সর্বোচ্চ সক্রিয়তাই দেখতে চাইব আমরা। বিদেশে সংঘটিত অনেক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তার সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। এ হতাহতের ঘটনা নিছক ‘দুর্ঘটনা’ কিনা, সেটি খতিয়ে দেখার দাবিও দেশটির সরকারের কাছে তুলতে পারে বাংলাদেশ দূতাবাস।

প্রবাসে নিজের সর্বোচ্চটুকু বিলিয়ে দিয়ে প্রতি মাসে যারা কোটি কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান, ওখানে তারা কী মানের জীবনযাপন করেনÑদেশে থাকা স্বজনদের অনেকেই সেটা ভাবেন না। এ ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষণীয় নীতিগত ক্ষেত্রেও। আমরা চাইব, এ মর্মান্তিক ঘটনা নীতিনির্ধারকদের মনকে নাড়া দেবে। জাতীয় স্বার্থে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু এ জন্য এ দেশের নাগরিকদের একটি অংশ কি বিদেশের মাটিতে নিঃশেষে বিলিয়ে দেবে নিজেদের? এ ধারার ওপর নির্ভরশীল হয়ে আমাদের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে কতকাল? সংগত কারণে সেটাও এখন চিন্তা করে দেখতে হবে।