বাণিজ্য সংবাদ

যশোরে এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বাড়ল ২০ টাকা

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। ইতোমধ্যে চাষিদের ঘরে রাখা পেঁয়াজের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এখন অতি মুনাফালোভী এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের মজুত করা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। মূলত বাজার এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। ভারতীয় আমদানিকৃত পেঁয়াজেও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির গতি শ্লথ হচ্ছে না। তাই সময় থাকতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তারা।
যশোর বড়বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হয় ২৫ টাকা। দুই তিন দফা দাম বেড়ে গতকাল সোমবার বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা। তবে দু-একজনকে বাছাই করা বড় সাইজের পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতেও দেখা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের কেজিতে বাড়ল ২০ টাকা। আর ২০ টাকার ভারতীয় মোটা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাষিদের মজুত করা পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের মাচায় রাখা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। বাজার এখন মজুতদারদের হাতে চলে গেছে। অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ হাটে, বাজারে অল্প পরিমাণে সরবরাহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। চাষিদের হাতে যখন পেঁয়াজ ছিল তখন বাজার স্বাভাবিক গতিতে চলছিল। দামও ছিল সহনীয় পর্যায়ে। কিন্তু চাষিদের মজুত পেঁয়াজ শেষ হওয়ার পর পরই বাজার চলে গেছে সিন্ডিকেটদের নিয়ন্ত্রণে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে বেড়েছে ২০ টাকা।
প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এই সময়টা চাষিদের হাতে পেঁয়াজ মজুত থাকে না। এক শ্রেণির অতি মুনাফালোভী ব্যবসয়ীদের ঘরে হাজার হাজার মণ পেঁয়াজ গুদামজাত করা থাকে। বাজার বুঝে তারা অল্প অল্প করে পেঁয়াজ বিক্রি করতে থাকেন। এতে করে বড় ধরনের একটা সংকট তৈরি হয়। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে তারা দুই হাতে লুটে নেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। ভুক্তভোগী ক্রেতারা বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আগে এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বড়বাজার কালীবাড়ী সংলগ্ন সবজি বাজারের আড়তদার ও মদিনা ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী শেখ জিয়া জানান, বর্তমানে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও পেঁয়াজের জোগান কমে এসেছে। এর পর দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম অনেকটা কমে আসবে এবং বাজারও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে ওই পেঁয়াজ উঠতে এখনও মাসখানেক সময় লাগবে।
যশোর বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা সাধারণত সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকা থেকে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ কিনে নিয়ে আসেন। সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আমদানিকারদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে গুদামজাত করেন। এ কারণে ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় অসংখ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা তাদের পেঁয়াজের লটে পচন ধরলে সেগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন।
গতকাল সকালে ভোমরার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান মোবাইল ফোনে জানান, কিছুদিন আগেও ভোমরায় ৫০-৬০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বিক্রি করতেন। কিন্তু ভারতে পেঁয়াজ সংকটের কারণে এখন ১০-২০ ট্রাক পেঁয়াজ তারা কিনতে পারছেন।
গতকাল বাজার করতে আসা লোন অফিস পাড়ার ব্যবসায়ী গোলাম তাহের টগর জানান, এক সপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজ কিনেছেন ২৫ টাকায়, আর আজ সেই একই পেঁয়াজ কিনতে হলো ৪৫ টাকায়। মাত্র সাত দিনেই কেজিতে বাড়তি ২০ টাকা। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং সে সঙ্গে আশঙ্কা করছেন, কোরবানি ঈদে হয়ত ৬০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে হবে। আরেক ক্রেতা বেজপাড়ার মকবুল সর্দার পেঁয়াজ সিন্ডিকেটদের লাগাম টেনে ধরতে এখনই প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

সর্বশেষ..