যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হোক

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীরা এটি ব্যবহারের জন্য আগের তুলনায় বেশি ফি দিলেও বাড়তি কোনো সুবিধা তারা পাচ্ছেন না। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের শুরুর দিন থেকে বাড়তি ফি আদায় করা হলেও কার্যত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, যাত্রীদের যদি বাড়তি সুবিধা জোগানো না হয়, তাহলে তাদের কাছে আগের তুলনায় বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে কেন? খবরে বলা হয়েছে, জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে নির্ধারিত বাড়তি ফি তো বটেই, ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ অবস্থায় স্বভাবতই এ প্রশ্নও জাগবে, নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত যে টাকা আদায় করা হচ্ছে, তা যাচ্ছে কার পকেটে? আমরা মনে করি, এসব প্রশ্নের উত্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া দরকার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। তাহলে এমন কর্মকাণ্ড থেকে তাদের বিরত রাখা কিছুটা হলেও সম্ভব হবে। নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রতিদিন যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় হয় সেটা সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা হচ্ছে কি না, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

বস্তুত বিভিন্ন কাজে সড়কপথে প্রতিবেশী দেশ ভারতে যারা যান, তাদের সিংহভাগই ব্যবহার করেন বেনাপোল স্থলবন্দর। এমনকি ভারত থেকে স্থলপথে যারা আসেন, তাদেরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে দেখা যায় বেনাপোল স্থলবন্দর। এ অবস্থায় ওখানে প্রতিদিন কী পরিমাণ বাড়তি ফি আদায় করা হচ্ছে, সে ব্যাপারেও একটি ধারণা করা হয়েছে সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। মনে রাখা ভালো, ওখান দিয়ে শুধু দেশের নয়, বিদেশি যাত্রীরাও যাতায়াত করেন। তাদের কাছেও যদি নির্ধারিত হারের চেয়ে বাড়তি ফি আদায় করা হয় তাতে বিদেশিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে। এজন্য আমরা চাইব, ওখানে ‘যাত্রী সুবিধা ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল দিয়ে যেসব যাত্রী যাতায়াত করেন, তাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন হয়। সঙ্গত কারণেই ওখান দিয়ে যাতায়াতকারীদের পর্যাপ্ত সুবিধা জোগানোর জন্যই অবকাঠামো উন্নয়ন করা দরকার। এ কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই, ওখানকার কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এজন্য তাদের উচিত হবে, আন্তর্জাতিক টার্মিনালটির প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা। মনে রাখা দরকার, এ কারণেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে বাংলাদেশের। ওখানে প্রতিনিয়ত যেহেতু অর্থ আদায় হচ্ছে, সেহেতু এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ কঠিন বলে মনে হয় না। শুধু দরকার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উদ্যোগ গ্রহণ। আমরা চাইব, শুধু যাত্রীদের সুবিধা জোগানোর জন্যই নয়, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার্থেও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীরা বিশেষত ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীরা যদি ভোগান্তি ছাড়াই আসার সুযোগ পায়, তাহলে ওই স্থলবন্দর ব্যবহার করে তাদের এ দেশে আসার এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতা ও সুবিবেচনা আমরা প্রত্যাশা করি।