যাত্রী হয়রানি রোধে ৯৯৯ রাখুক কার্যকর ভূমিকা

গণপরিবহনে জরুরি সেবার জাতীয় হেল্পডেস্ক নম্বর ৯৯৯ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সংস্থাটির মতে, যাত্রী নিরাপত্তা বাড়ানো ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত। একে স্বভাবতই দেখতে হয় ইতিবাচক দৃষ্টিতে। এতে এসবের পাশাপাশি গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়সহ অন্য যেসব ইস্যুতে যাত্রী হয়রানির প্রবণতা লক্ষ করা যায়, তা কিছুটা হলেও কমে আসবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিআরটিএকে। তবে কবে থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। গণপরিবহনে বিশেষত নারী যাত্রী হয়রানির বড় কয়েকটি ঘটনা লক্ষ করা গেছে নিকট অতীতে। এ পরিস্থিতিতে স্পষ্টতই পুলিশি সহায়তা তারা নিতে পারেননি। তাহলে অন্তত প্রাণ রক্ষা করতে পারতেন তারা। আমরা মনে করি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গণপরিবহনে ৯৯৯ নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্তটি দ্রুত কার্যকর করা দরকার। তাতে পরিস্থিতি উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে সরকারের কঠোর মনোভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক হবে বলে প্রত্যাশা।
তথ্যমতে, বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া এবং নবায়নের সময় বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। এ সার্টিফিকেট প্রদানে অনৈতিকতা চর্চার উদাহরণ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি শ্রেণির মধ্যে। সড়কে যে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল লক্ষ করা যায়Ñএটা তার অন্যতম কারণ। তারা যদি এ চর্চা অব্যাহত রাখেন, তাহলে নম্বরটি গণপরিবহনের অভ্যন্তরভাগে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন হবে। এজন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকিও দেখতে চাইব আমরা। মনে রাখা চাই, সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলেও যাত্রীদের যদি এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা না হয়, তাহলে এ থেকে খুব একটা সুফল মিলবে না। সঙ্গত কারণেই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে হেল্প নম্বরে ফোন করার ব্যাপারে যাত্রী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। গণপরিবহনে এ নম্বর প্রদর্শন যেহেতু পরিপালনের অংশÑসেহেতু কোন স্থানে আর কীভাবে তা প্রদর্শন করতে হবে, সেটিও স্পষ্ট থাকা উচিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায়।
গণপরিবহন শুধু সড়কপথে নয়; চলে রেল, নৌ ও আকাশপথে। এসবেও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায় মাঝেমধ্যে। এসব পরিবহনেও জাতীয় হেল্প নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নিয়েছে বলে জানা নেই। আমরা চাইব, সড়কপথের দৃষ্টান্ত তাদের কাজে অনুসৃত হবে। জাতীয় হেল্প নম্বরে ফোন করে মানুষজন যে পুলিশের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন, তার কিছু উদাহরণ আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ করেছি বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিপদের সময় হেল্প নম্বরে কল করার প্রবণতাও বাড়বে। এও মনে রাখা দরকার, সেবার পরিধি বিস্তারের সঙ্গে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো না হলে একসময় মানসম্পন্ন সেবা জোগানো সংস্থাটির পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রত্যাশা থাকবে, এ লক্ষ্যেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার।