সম্পাদকীয়

যানজটের ঢাকা হোক ঈদযাত্রার মতো আনন্দময়

প্রতিবছর ঈদ আসে মুসলমানদের ঘরে ঘরে আনন্দের বারতা নিয়ে। এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সমাজের ধনী-দরিদ্র সবার মাঝে। ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে ছুটে যায় গ্রামের বাড়িতে। অনেকেই নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা ছেড়ে প্রকৃতির কাছে ছুটে যান ঈদের ছুটিতে। অল্প সময়ে এত অধিকসংখ্যক মানুষের ঢাকা ছেড়ে যেতে প্রতিবছরই পোহাতে হয় নানা ঝক্কি-ঝামেলা। এই ঝক্কি-ঝামেলা সত্ত্বেও গ্রামে বা ঢাকা ছেড়ে ঘরমুখো হয় মানুষেরা।
সেইসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঈদ আনন্দ শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। আবার ফিরে আসছে তারা নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতায়। ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য প্রধান সমস্যা দেখা দেয় পরিবহন ব্যবস্থায়। সাধারণত মানুষ তিন ধরনের পরবিহনে ঢাকা ছেড়ে যায় সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথ। এবারের ঘরমুখো মানুষের জন্য সড়কপথ ছিল মোটামুটি স্বস্তিদায়ক, যদিও বেশকিছু দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সেতু ও মহাসড়কগুলোর উন্নতি হওয়ায় এবার ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তিও কম হয়েছে। তবে পরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য এবং সড়ক দুর্ঘটনা ও তাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যথারীতি। এ থেকে কবে আমাদের মুক্তি মিলবে কে জানে! নৌপথেও ছিল না তেমন সমস্যা। শুধু উত্তরাঞ্চলের রেলপথে শিডিউল বিপর্যয়ও ছিল দুর্ঘটনাজনিত। তাই বলা যায়, এবারের ঈদে মানুষ স্বস্তির সঙ্গে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। একইভাবে তারা নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরে আসবে এটাই কাম্য।
এবার ঈদের আগে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। জানা যায়, গত মে মাসে প্রবাসীরা ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, মাসের হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে এই যে বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতবদল হচ্ছে, এতে চাঙা হয়ে উঠছে আমাদের অর্থনীতি, যা ঈদ উৎসবের একটি ইতিবাচক দিক।
ঈদের ছুটিতে ঢাকাবাসীও কাটিয়েছে এক স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন। কিন্তু এই পরিস্থিতি হয়তো থাকবে না, যখন কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে ঢাকা। আবার যানজটে আর নাগরিক নানা সমস্যায় নাকাল হবে ঢাকাবাসী।
ঈদযাত্রা আরামদায়ক হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন। ঘরমুখো মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে। ঢাকাবাসীও প্রত্যাশা করে এমন একটি পরিবেশ, যেখানে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। সেদিকে সরকার দৃষ্টি দেবে। চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির মাঝেও মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সুবিধা পাবে এটাই প্রত্যাশা। ঈদযাত্রার আনন্দের মতো ঢাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত হবে এটাই আমরা কামনা করি।

 

সর্বশেষ..