সম্পাদকীয়

যানজট বিষয়ে আইএমইডির প্রতিবেদন আমলে নিন

ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্য যানজট নিরসনের মাধ্যমে নগরবাসী ও যাত্রীসাধারণকে স্বস্তি দেওয়া। ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে খরচ ছাড়িয়েছে এরই মধ্যে। আরও নির্মিত হবে। কিন্তু ফ্লাইওভার নিয়ে নাগরিকদের অভিজ্ঞতা নেতিবাচক। অনেকেই বলছেন, ফ্লাইওভারের কারণে যানজট কমেনি, বরং বেড়েছে। ফ্লাইওভারের কারণে যানজটে স্থান পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। ফ্লাইওভারের নিচে যানজট নেই। কিন্তু ফ্লাইওভার যেখানে গিয়ে সমতলে নেমেছে, সেখানে যানজট।
নাগরিকের দুর্ভোগ নিয়ে রাষ্ট্রের নীরবতা নিয়ে অনেক সমালোচনাও রয়েছে। খোদ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বলছে ফ্লাইওভার নির্মাণেও যানজট কমেনি মগবাজার-মৌচাক এলাকায়। ফ্লাইওভারটি ব্যবহারকারীদের সমীক্ষা চালিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। এ মূল্যায়ন সমীক্ষার ভিত্তিতে গতকাল শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের আগে ও পরে প্রকল্পের আওতাভুক্ত সাতটি এলাকায় কেমন যানজট হতো তা ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এই প্রশ্নের জবাবে ৮৮ দশমিক শূন্য চার শতাংশ মানুষ বলেন, সাতটি এলাকায় খুব বেশি যানজট ছিল। আর ফ্লাইওভার নির্মাণের পরও এলাকা সাতটিতে যানজট হয় বলে মনে করেন ৮০ শূন্য ৯ শতাংশ মানুষ।
বিপুল ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভার যানজট কমাতে পারেনি। আমরা মনে করি, ট্রাফিক পদ্ধতি আধুনিকায়ন না করা এবং অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মাণই যানজটের কারণ। এছাড়া আমাদের ফ্লাইওভারগুলো মূলত ওভারপাস, এটি এক জায়গা থেকে উঠে আরেক জায়গায় গিয়ে নেমেছে। এতে গাড়িগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে নামছে। বিশ্বের কোনো দেশ যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণ করেনি। বরং বর্তমানে যানজট কমাতে বিভিন্ন শহরে ফ্লাইওভার ভাঙা হচ্ছে। আর আমরা কি না হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছি ফ্লাইওভার নির্মাণে। শুধু তা-ই নয়, যৌক্তিক-অযৌক্তিক কারণে নির্মাণব্যয় বাড়ছে। এতে রাষ্ট্রের অর্থই অপচয় হয় না, সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে।
আমাদের মনে আছে, ভুল পরিকল্পনার কারণে এ ফ্লাইওভারটির নির্মাণব্যয় বেড়েছে। কিছু কাজ করার পর প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারলেন, ফ্লাইওভারটির নকশা বাম পাশে স্টিয়ারিংবিশিষ্ট গাড়ির কথা মাথায় রেখে তৈরি। অথচ বাংলাদেশে সব ধরনের যান্ত্রিক যান ডানে স্টিয়ারিংবিশিষ্ট। পরে জানা গেল, স্বাধীন কোনো পরামর্শক দিয়ে যাচাই-বাছাই (ভেটিং) করা হয়নি ফ্লাইওভারটির নকশা। ফলে নকশার ত্রুটি ধরা পড়েনি সে সময়। ফ্লাইওভারটির নির্মাণব্যয় বেড়ে যায় অনেক। এখন সেটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য পূরণেও ব্যর্থ হচ্ছে।
আইএমইডি’র সমীক্ষা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ভবিষ্যতে বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */