যানবাহনের ঝাঁকুনিতে হতে পারে স্লিপ ডিস্ক

কোমরে ব্যথা বা স্লিপ ডিস্কে আক্রান্ত অনেকে। এমনটি আপনার বেলায় ঘটলে নিজে নিজে ডাক্তারি করবেন না। কেননা এতে বিপদ বাড়বে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসা করান। না হলে শয্যাশায়ী হয়ে পড়তে পারেন।
কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য অনেকে পেইনকিলার (ব্যথানাশক) খেয়ে থাকেন। মলমও লাগান কেউ কেউ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই উত্তম।
স্লিপ ডিস্ক এমনই এক সমস্যা যা হলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, স্বাভাবিক চলাফেরার কষ্ট হয়। শিরদাঁড়ার ব্যথার জন্য মূলত দায়ী এই স্লিপ ডিস্ক।
চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ডিস্ক হার্নিয়েশন। আমাদের শিরদাঁড়া বা ভাটিব্রা তৈরি ২৬টি ছোট হাড়ের টুকরো বা ভার্টিব্রেট দিয়ে। হাড়গুলোর মাঝে থাকে নরম জেলি ভরা ডিস্ক। একটা হাড়ের সঙ্গে অন্য হাড়ের ঘষা লেগে যাতে হাড়ের ক্ষয় না হয় সেটা প্রতিরোধ করাই এই ডিস্কের কাজ। কিন্তু কখনও কখনও ঝুঁকে বা সামনের দিকে নিচু হয়ে কিছু তুলতে গেলে ডিস্ক সরে যায়। তখন নার্ভ রুটে চাপ পড়ে শুরু হয় যন্ত্রণা।
স্লিপ ডিস্কের জন্য প্রথমে অল্প, পরে অসহ্য ব্যথা হতে পারে। ব্যথার বিশেষত্ব হলো কোমর থেকে পায়ের দিকে কিংবা ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা নেমে আসে, ঝিনঝিন করে। ব্যথার গতিপ্রকৃতি অর্থাৎ ব্যথা অল্প হবে, না বেশি  তা নির্ভর করে জেলি কতটা বেরিয়ে গেছে এবং তা নার্ভের গোড়ায় কতটা চাপ দিচ্ছে, তার ওপর। অনেকে প্রথম দিকে
তেমন ব্যথা থাকে না বলে একে পাত্তা দেন না। ফলে পরবর্তীকালে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় ব্যথা। তখন চিকিৎসকের কাছে গেলেও সারতে সময় লাগে।
দেহের ঘাড়ে ও কোমরের নড়াচড়া বেশি হয় বলে এ দুই জায়গাতেই সিøপ ডিস্কের সমস্যাও বেশি হয়। ঘাড়ে হলে ব্যথা কাঁধ থেকে হাতে নেমে আসে আর কোমরে হলে ব্যথা বা ঝিনঝিনে ভাব পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। রাতের দিকে এই ব্যথার প্রকোপ বাড়ে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যথার জন্য হাত-পায়ের জোর কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে মল-মূত্র ত্যাগেও সমস্যা হতে পারে।
সিøপ ডিস্কের জন্য অনেক ক্ষেত্রে দায়ী সেডেন্টারি লাইফস্টাইল বা দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে বসে কাজ করার অভ্যাস। কারণ এতে শিরদাঁড়ার আশেপাশের পেশি দুর্বল হয়ে একটুতেই জেলির কুশন বেরিয়ে আসে। এছাড়া সামনের দিকে ঝুঁকে ভারী জিনিস তোলা, বাস, রিকশা কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে চলার সময় আচমকা জোরে ঝাঁকুনি লাগলে, বেশি ছোটাছুটি করলে, ভারী এক্সারসাইজ করতে গেলে, এমনকি বেশি ওজন হলেও সিøপ ডিস্ক হতে পারে। এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় ৩০ থেকে ৫৫ বছরে। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের এ সমস্যা প্রায় দ্বিগুণ বেশি হয়। হঠাৎ করে ভারী এক্সারসাইজ না করে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে এ সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
বেশিরভাগ সময় সিøপ ডিস্ক নির্ধারণের জন্য তেমন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের চোখ ও হাতই রোগ নির্ণয়ের পক্ষে যথেষ্ট। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান ও কিছু রুটিন রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। সে অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু হয়।
কিছু মানুষ আছে, যারা কোমরের ব্যথাকে মামুলি যন্ত্রণা ভেবে গুরুত্ব দেয় না। নিজেরাই ব্যথার ওষুধ কিনে খেয়ে যায়। এতে করে অনেক সময় স্থায়ীভাবে নার্ভ খারাপ হয়ে যায়। রোগী তখন শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। কাজেই কোমরের ব্যথায় কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ সময় সমস্যা দূর করা যায় সাধারণ চিকিৎসায়। কাজেই ব্যথা হলে প্রথমেই ডাক্তার দেখান। সিøপ ডিস্ক থেকে দূরে থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সোজা হয়ে হাঁটাচলা করুন, ভারী জিনিস ঝুঁকে তোলার অভ্যাস ত্যাগ করুন।