বিশ্ব বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রকে উপযুক্ত জবাবের হুশিয়ারি চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন ২০১৮ সালে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় শুল্কারোপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রয়োজনে চীনের পণ্যে আরও এক দফা শুল্কারোপ করা হবে। জবাবে বেইজিং বলেছে, শেষ পর্যন্ত লড়তে তারা প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রকে তারা উপযুক্ত জবাব দেবে। খবর: রয়টার্স, এনডিটিভি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, বেইজিং বাণিজ্যযুদ্ধ চায় না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা বাড়াতে চায় তবে চীন এতে ভীত নয় বরং শেষ পর্যন্ত লড়তে প্রস্তুত। তিনি ধনী দেশগুলোর সংগঠন জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও আলোচনার দ্বার উম্মুক্ত রয়েছে বলে জানান।
বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম শিকার ভারতকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় চীন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, শুল্কারোপ বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার। এতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।
আগামী সপ্তাহে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এর সম্মেলন রয়েছে। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনের এক ফাঁকে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। আসন্ন এ সম্মেলন সামনে রেখে মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানায় বেইজিং। চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝাংহান হুই বলেন, রক্ষণশীল ও একক মার্কিন বাণিজ্য নীতির ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে যৌথভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
বহুদিন ধরেই বৈরী সম্পর্কের মধ্যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। একে অন্যের ওপর কয়েক বিলিয়ন ডলার শুল্কারোপ করে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেছে তারা। উভয় দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব বুঝতে পেরে এ বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করে দু’দেশ। কিন্তু আলোচনা চলামান থাকা অবস্থায় ট্রাম্প শুল্ক বাড়িয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ উসকে দিয়েছেন। কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুদিনব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দু’দেশ।
দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ ব্যবসায়ী ও ক্রেতার মধ্যে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতার জন্য শুল্ক বাড়ানোটা একটি ধাক্কার মতো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ..