যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় রাশিয়ার রুবলের দরপতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণায় রাশিয়ার রুবলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই রুবলের দাম কমে যায়। ২০১৬ সালের নভেম্বরের পর ডলারের বিপরীতে রুবলের মান এবার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। খবর: বিবিসি।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সাবেক রুশ এজেন্ট সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর নার্ভ এজেন্ট হামলায় রাশিয়া জড়িত বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য। আর এ কারণেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মস্কো স্টক এক্সচেঞ্জে রুবল-ডলার দর পৌঁছেছে ৬৬ দশমিক সাত-এ। গত মঙ্গলবার রুবলের বিপরীতে ডলারের দাম ছিল ৬৩ দশমিক চার। বৃহস্পতিবার মস্কোয় রাশিয়ার অ্যারোফ্লট, রুসাল ও সারব্যাংকের মতো অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এদিকে রুবলের বিপরীতে ইউরোর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক আট।
যুক্তরাজ্যের এক তদন্তে বলা হয়, স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর নার্ভ এজেন্ট হামলা করেছে রাশিয়া। তাদের সেখানকার একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সুস্থ হলেও নিরাপত্তার জন্য তাদের অবস্থান গোপন করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য ও এর পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ান কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। তবে রাশিয়া এ আক্রমণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এক টুইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জেরেমি তার টুইটে বলেন, নার্ভ এজেন্ট বা অন্যান্য ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মাধ্যমে হামলা কোনোভাবেই নৈতিক হতে পারে না। এদিকে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত কঠোর বলে সমালোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আগামী ২২ আগস্ট থেকে রাশিয়ার ওপর আরোপ করা এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক পণ্য ও অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে সামরিক আবেদন থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, যদি রাশিয়া পরবর্তীতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয় এবং জাতিসংঘকে তদন্তের জন্য অনুমতি না দেয়, তবে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে আমেরিকায় অ্যারোফ্লটের ফ্লাইট বাতিল করা হবে। তবে খাদ্যপণ্য এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট বলেন, এ বিষয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, রাশিয়া রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়া তার নিজ দেশের নাগরিকের ওপর প্রাণনাশকারী রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত রাশিয়া দূতাবাসের পক্ষ থেকে এর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়, কোনোরকম প্রমাণ ছাড়া রাশিয়া এসব অভিযোগ শুনতে অভ্যস্ত নয়। সেখানে আরও বলা হয়, স্যালিবারিতে ঘটে যাওয়া অপরাধের উম্মুক্ত ও স্বচ্ছ তদন্ত চায় রাশিয়া।
এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার আক্রমণের অভিযোগে রাশিয়ার পাঁচটি কোম্পানি ও তিন রাশিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এসব কোম্পানির সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের জন্য ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার আগ্রাসন ও সহযোগিতার অভিযোগে কয়েক ডজন রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সে নিষেধাজ্ঞাগুলো ভ্রমণ ও আর্থিক লেনদেনকে সীমাবদ্ধ করে।