যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ কানাডার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেছে কানাডা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ দায়ের করেছে দেশটি। খবর বিবিসি।
আমদানি পণ্যে ভর্তুকি ও কম মূল্যে বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো তদন্তের নিয়মের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে কানাডা এ অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
কানাডা এ অভিযোগ এমন এক সময় করল, যখন দুই দেশের মধ্যে ডেইরি শিল্প, বিমান বিক্রি ও কাঠ শিল্পের পাশাপাশি নাফটা চুক্তি নিয়ে আবার ঐকমত্যে আসার জন্য আলোচনা চলছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডার দায়ের করা ৩২ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র অন্যায়ভাবে আমদানি করা পণ্যের মূল্যহারের হিসাব করে ও অন্যায্যভাবে শাস্তিমূলক শুল্ক ঘোষণা করে। কিন্তু এজন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেয় না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক ইস্যু নিয়ে কাজ করা রিদিআউ পটোম্যাক স্ট্র্যাটেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান এরিক মিলার বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ দায়েরের ঘটনা অভূতপূর্ব।
কানাডা এ অভিযোগ দায়ের করল একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর একটি সংরক্ষণবাদী নীতি গ্রহণ করেছেন। ২০১৭ সালে দেশটির বাণিজ্য বিভাগ ৮০টিরও বেশি অ্যান্টিডাম্পিং ও প্রতিশুল্কসংক্রান্ত তদন্ত করেছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় অন্তত ৪৬ শতাংশ বেশি। এসব তদন্ত, যা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে চালানো হয়, তা উচ্চ আমদানি শুল্ক হার নির্ধারণের শঙ্কা তৈরি করে।
চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র এ-সংক্রান্ত কিছু তদন্তের রিপোর্ট পেশ করে, যার মধ্যে কানাডার একটি নিউজপ্রিন্ট পণ্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি রবার্ট লিঘথিজার যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ার অন্যতম মধ্যস্ততাকারী। তিনি বলেছেন, কানাডার দাবিটি ভিত্তিহীন। এটা একটি বিশাল ব্যাপার ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিকার ব্যবস্থার উপর একটি অবিবেচনাপ্রসূত আক্রমণ। এটার মাধ্যমে দেশটির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিষয়ে আস্থা নষ্ট করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড অরগানাইজেশনের কাছে গত ২০ ডিসেম্বর অভিযোগটি দায়ের করে কানাডা, যা গত বুধবার সংস্থার সদস্যদের অবহিত করা হয়। এখন এটার বিষয়ে সংস্থায় ৬০ দিন ধরে আলোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান না হলে এটা একটি ডব্লিউটিও প্যানেলের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস বলেছেন, এই অভিযোগের রায় নিজেদের পক্ষে যাবে বলে সম্পূর্ণ বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি বলেন, এ অভিযোগের ক্ষেত্রে একটি ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করতে প্রযোজ্য আইন, নিয়ম-কানুন ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার বিধি রয়েছে।
কানাডার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বনবিভাগের কর্মকাণ্ড সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কানাডার বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, আমরা এ বিষয়ে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।