বিশ্ব বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নগ্ন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাণিজ্য উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিবিদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে তা শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এতে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না বলেও মনে করেন তিনি। খবর: রয়টার্স, এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুললে বাণিজ্যযুদ্ধ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়। পরে ওয়াশিংটন আরও অন্তত ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ করে।
সার্বিক বিষয়ে বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের চীনা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝাং হ্যান হুই বলেছেন, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, শুল্কারোপ একং সংরক্ষণবাদিতার মতো ‘বড় লাঠি’ ব্যবহারের বিরোধী চীন। তিনি বলেন, আমরা বাণিজ্যযুদ্ধের বিরোধী, তবে এ নিয়ে ভীত নই। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর ও ত্বরান্বিত করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এটা একটি অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ, অর্থনৈতিক অন্ধ জাতীয়তাবাদ এবং অর্থনৈতিক দমন।
সাংবাদিক সম্মেলনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আগামী সপ্তাহে চীনা প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের রাশিয়া সফর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ওই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
চীনা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হতে পারে না। সবাইকেই এতে ক্ষতিরা শিকার হতে হয়। এ বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। এতে উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এ অবস্থায় নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষার উপায় চীনের সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে বাণিজ্যযুদ্ধের পাল্টা আঘাত হিসেবে দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দেয় চীন। কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দ্য পিপলস ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পরে যুক্তরাষ্ট্র যেন অভিযোগ করতে না পারে যে, তাদের আগে সতর্ক করা হয়নি।’
পত্রিকাটি মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয় ‘যুক্তরাষ্ট্র, চীনের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতাকে ছোট করে দেখবেন না’। গত সপ্তাহে একটি দুষ্প্রাপ্য খনিজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওই সফরে যেসব পদার্থ রফতানিতে চীনের নেতৃত্ব রয়েছে সেগুলোর রফতানি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা আঘাতের বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তত ১৭টি রাসায়নিক উপাদান আছে যেগুলো বৈদ্যুতিক ও সামরিক উপকরণে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্কারোপ করায় এ পণ্যগুলোর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনা প্রশাসন এখনও এ খনিজ পদার্থগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বন্ধ করার ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু ওই পত্রিকার খবরে তা বন্ধ করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এ পদার্থ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বন্ধ করা হবে বলে মন্তব্য করেন গ্লোবাল টাইমসের সম্পদকও।
২০১০ সালে জাপানকে শিক্ষা দিতেই একই পদক্ষেপ নিয়েছিল বেইজিং। এদিকে জাপান সফরকালে যুক্তাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে এখনই প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, হয়তো চীন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা চুক্তি করতে প্রস্তুত নই। তবে চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একের পর এক শুল্কের বোঝা চাপিয়ে চীনকে কোণঠাসা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ চাপে আত্মসমর্পণ করবে না চীন। সম্প্রতি চীন স্পষ্ট বলেছে, বাইরের কোনো চাপে তারা ভীত হবে না।

সর্বশেষ..