যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রত্যাশা উত্তর কোরিয়ার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রায় তিন দশক ধরে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে গেছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ব নেতারাসহ জাতিসংঘ ক্রমাগতভাবে চাপ প্রয়োগ করে গেছেন দেশটিকে এ থেকে বিরত রাখতে। অবশেষে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সেটি করতে সম্মত হয়েছেন। সিঙ্গাপুরে আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কিমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সর্বোচ্চ দুই নেতা প্রথমবার বৈঠকে বসছেন। বৈঠকে কী সমাধান আসে সেদিকে দৃষ্টি গোটা বিশ্বের। পিয়ংইয়ং আশা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন একটি সম্পর্ক স্থাপনের। তবে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেছেন, এ বৈঠকের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে এমনটা আশা করাও কঠিন। খবর বিবিসি, রয়টার্স।
ঐতিহাসিক বৈঠকের এক দিন আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মনোভাব ব্যক্ত করেছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করার পর এই মন্তব্যে সুর পাল্টানোর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সাধারণত তাদের নেতার তৎপরতার খবর প্রকৃত সময়ে প্রকাশ করে না এবং এবারের বৈঠক সম্পর্কেও সরাসরি কিছু বলেনি। তবে রোদং সিনমুন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে কিম সিঙ্গাপুরে গিয়েছেন, এটি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘নতুন যুগের দাবি মেটাতে আমরা একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলব।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কোরীয় উপদ্বীপে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ইস্যুসহ যেসব সমস্যা সাধারণ উদ্বেগের বিষয়, সেগুলোর সমাধানে খোলাখুলি গভীর মতামত বিনিময় করা যেতে পারে।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ট্রাম্প-কিম বৈঠকের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করুক। কিন্তু উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ প্রতিরোধ করবে বলেই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু বিনিময়ে তারা কী চাইতে পারে তা পরিষ্কার নয়।
স্থানীয় সময় গত রোববার সন্ধ্যায় উভয় দেশের নেতাই সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের বহু প্রত্যাশিত এই বৈঠকের ব্যাপারে তার মধ্যে ‘শুভ অনুভূতি’ বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার সকালে এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের ‘আবহে উত্তেজনা বিরাজ করছে’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আশা, এই শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে একটি প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা শেষ পর্যন্ত কিমের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে গিয়ে ঠেকবে।
ট্রাম্প ও কিম সিঙ্গাপুরে পৃথক দুটি হোটেলে অবস্থান করছেন, তবে হোটেল দুটি পরস্পর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। আজ মঙ্গলবার তারা সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপের আরেকটি হোটেলে বৈঠকে মিলিত হবেন। পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় এই দ্বীপটি সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ড থেকে কয়েকশ মিটার দূরে।