যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক : চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এক পঞ্চমাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বৃহৎ দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে পাল্টপাল্টি শুল্কারোপ নিয়ে বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এমতাবস্থায় চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বৃদ্ধির খবরে যুক্তরাষ্ট্র যাতে উত্তেজিত না হয়, সে জন্য দেশটিকে ধৈর্য ধরতে বলেছে বৈইজিং। খবর এএফপি।

সম্প্রতি প্রাকিশত উপাত্তে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মাধ্যমে চীনই বেশি সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে ৫৮ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৯ দশমিক চার শতাংশ। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৪ দশমিক আট শতাংশ। অন্যদিকে দেশটি থেকে আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে আট দশমিক ৯ শতাংশ।

যদিও মার্চে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আগের মাসের তুলনায় কমেছে। গত মাসে উদ্বৃত্ত হয়েছে ১৫ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারিতে উদ্বৃত্ত ছিল ২১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে জানুয়ারিতে উদ্বৃত্ত ছিল ১৭ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার। গত মাসে বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে সাত দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। মূলত চান্দ্রবর্ষ উপলক্ষে গত মাসে দেশটির এ ঘাটতিতে পরে, যেটা সাধারণত হয় না।

গত মার্চের প্রথমদিকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্কের হার বাড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ১২৮টি মার্কিন পণ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্কারোপের কথা ঘোষণা করে বেইজিং। এর পর গত সপ্তাহে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে এক হাজার ৩০০ চীনা পণ্যে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ডলারের শুল্কারোপের নতুন পরিকল্পনার কথা জানায় ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের ওই পরিকল্পনার পরপরই সয়াবিন, এয়ারক্রাফটের যন্ত্রাংশ, কমলালেবুর রসসহ ১০৬টি মার্কিন রফতানি পণ্যে চীনের অতিরিক্ত পাঁচ হাজার কোটি ডলারে শুল্কারোপের প্রস্তুতির খবর পাওয়া যায়। বেইজিংয়ের এ পাল্টা পদক্ষেপকে অন্যায্য অ্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

যদিও গত মঙ্গলবার শি জিনপিং চীনকে বাণিজ্যের জন্য আরও উš§ুক্ত করার ঘোষণা দেন। গাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক কমিয়ে আমদানি নীতি আরও সহজ করার কথা জানান তিনি। এছাড়া বাণিজ্য নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের মনোভাবের বিরোধিতাও করেন শি।

বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা অনেকটাই শিথিল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমন অবস্থায় দুদেশের মধ্যে এ উপাত্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ক্ষেপিয়ে তোলে কিনা, সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়িক মহল।