প্রচ্ছদ শেষ পাতা

যোগ্য প্রার্থী না পেয়ে জিএমকে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দুই দফা বিজ্ঞাপন দিয়েও যোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খুঁজে পায়নি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। মূলত পরিচালনা পর্ষদের প্রতি ইতিবাচক ধারণার অভাব এবং এ এক্সচেঞ্জের বাজার অংশীদারিত্ব কম থাকায় এমডি পদে যোগ্য ব্যক্তিরা আগ্রহী হচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ফলে এমডির দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) গোলাম ফারুক ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও পদে বসানোর জন্য তাকে অল্প সময়ের ব্যবধানে ডিজিএম থেকে জিএম করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত হওয়ায় রুটিন কাজ ছাড়া নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারছেন না। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর ভারপ্রাপ্ত এমডির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধিকাংশ ট্রেকহোল্ডার।
সিএসই ও ট্রেকহোল্ডার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের এমডি পদ থেকে দেড় মাস আগে বিদায় নেন সাইফুর রহমান মজুমদার। যার মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল। এর আগেই ১০ এপ্রিল একাধিক পত্রিকায় ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপন প্রকাশের দিন থেকে পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে আগ্রহীদের আবেদন করতে বলা হয়। যোগ্য প্রার্থীকে কাজের ভালো পরিবেশের পাশাপাশি আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ও সুবিধা প্রদান করা হবে বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে এমডি পদের জন্য ১৬টি আবেদন জমা পড়লেও দেড় মাসে কেউকেই স্থায়ী এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একই মাসের ২৯ এপ্রিল ওই আবেদনগুলো নিয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির (এনআরসি) সভা হয়। এতে আবেদন যাচাই-বাছাই করে শর্ট লিস্ট করে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পায়নি সংস্থাটি। এরপর আরেকবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ দফায়ও যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি।
এদিকে পূর্ণাঙ্গ এমডি না থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে লেনদেন তলানিতে নেমেছে। মার্কেট শেয়ারে নিজেদের বাজার অংশীদারিত্বও কমে গেছে। আর নির্ধারিত সময়ের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কৌশলগত অংশীদারের (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার) পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সিএসইর অর্জন ও অগ্রগতি না থাকায় পরিচালনা পর্ষদও আস্থা কিংবা নির্ভরশীল হতে পারছে না ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ওপর। ফলে কয়েক বছর ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে আগ্রহী প্রার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি সদ্য বিদায়ী এমডির আরেক মেয়াদ থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আগ্রহী হননি তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থাটির একজন সাবেক পরিচালক ও ট্রেকহোল্ডার শেয়ার বিজকে বলেন, সদ্য বিদায়ী এমডিকে তো রাখতে পারতেন। কিন্তু রাখেনি কেন? আর বর্তমানে যাকে ভারপ্রাপ্ত এমডি করা হয়েছে, তিনি তো এ পদের জন্য কোনোভাবেই যোগ্য নন। দ্রুত সময়ে এ পদে বসানোর জন্য তাকে ডিজিএম থেকে জিএম করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ এক্সচেঞ্জে পরিচালনায় যোগ্য লোক চট্টগ্রামে আসবে না। আর স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য এ পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অবস্থা ভালো নয়।
এমডি নিয়োগের বিষয়ে সিএসইর স্বাধীন পরিচালক এবং এনআরসি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, দুই দফা বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরও যোগ্য লোক পাওয়া যায়নি। ফলে স্থায়ীভাবে এমডি নিয়োগ দেওয়া যায়নি। এ কারণে ঈদের আগে বোর্ড সভায় জিএম ফারুক সাহেবকে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়। পাঁচ-ছয় মাস পর আবারও এমডি নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। তখন হয়তো স্থায়ীভাবে কেউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ট্রেকহোল্ডাররা ভারপ্রাপ্ত এমডির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যোগ্য হলে তো তিনি স্থায়ী নিয়োগ পেতেন। যেহেতু তিনি সিনিয়র, সেহেতু আপাতত তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে দেশের দ্বিতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে যাত্রা করে সিএসই। বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে প্রতিষ্ঠানটি। লেনদেন আশঙ্কাজনক হারে কমার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের মার্কেট শেয়ারের অংশীদায়িত্ব কমছে প্রতিবছর। এক সময় ১০ শতাংশ থাকলেও এখন মাত্র তিন শতাংশের কাছাকাছি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রতিষ্ঠানটি নিট মুনাফা করেছে মাত্র ৩৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যা ছিল ৪২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

সর্বশেষ..