যৌক্তিক ভাড়া জনপ্রিয় করবে উবারকে

ঢাকায় ভাড়ার হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন ট্যাক্সি-সেবা প্রতিষ্ঠান ‘উবার’। তবে নতুন ভাড়ার হার উপমহাদেশের বিভিন্ন শহরের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি নতুন সেবা ‘উবার প্রিমিয়ার’ চালু করা হয়েছে। এর ভাড়া স্বভাবতই আরও বেশি। অপেক্ষাকৃত সচ্ছল যাত্রীর জন্য এটি চালু করা হয়েছে।

গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, গত ২২ নভেম্বর ঢাকায় যাত্রা শুরুর দুই মাসের মধ্যেই বাড়ানো হয়েছিল এর ভাড়া। ভাড়া নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের নানামুখী অভিযোগ আসতে শুরু করে তখন। সে সময় প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ধরা হয় ২১ টাকা। আর যাত্রাপথে বিরতির জন্য প্রতি মিনিটের চার্জ ছিল তিন টাকা। সঙ্গে রয়েছে ৫০ টাকা ভিত্তিভাড়া (বেস ফেয়ার)।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতায় ‘উবার-এক্সের’ ভিত্তিভাড়া ঢাকার চেয়ে বেশি, ৪৭ দশমিক ৭০ রুপি, দেশীয় মুদ্রায় যা ৫৮ টাকা ৫০ পয়সা। তবে যাত্রাপথে প্রতি মিনিটের জন্য গুনতে হয় এক দশমিক ৬০ রুপি (এক টাকা ৯৬ পয়সা)। আর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ৯ দশমিক ছয় রুপি বা ১১ টাকা ৭৮ পয়সা। দিল্লি, আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু আর মুম্বাইয়েও উবারের ভাড়া ঢাকার তুলনায় কম। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, ফয়সালাবাদেও উবারের ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম।

উবারের নিজস্ব গাড়ি নেই। এটি মোবাইল ফোন অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ির মালিক ও চালকের সঙ্গে যাত্রীর সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। গাড়িচালক ও যাত্রী, এ দুই পক্ষকেই আগে নিবন্ধিত হতে হয়। ঢাকায় চুক্তিবদ্ধ চালকের প্রতি ট্রিপের ২৫ শতাংশ অর্থ পায় উবার। বাকিটা গাড়ির মালিক ও চালক পেয়ে থাকে।

জনসংখ্যার চাপ, গণপরিবহনের স্বল্পতা, অত্যধিক রিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য প্রভৃতি কারণে যানজট রাজধানীবাসীর নিত্য সমস্যা। বিশেষ করে যথাসময়ে অফিসে পৌঁছাতে কিংবা বাসায় ফিরতে নষ্ট হয় অনেক সময়। মিটার ও স্বল্প দূরত্বে না যাওয়াসহ স্কুটারচালকদের স্বেচ্ছাচারিতার কাছেও একপ্রকার অসহায় যাত্রীসাধারণ। কোনো সরকারই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি এদের। এ অবস্থায় উবার ও স্থানীয় ‘পাঠাও’সহ অ্যাপভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ট্যাক্সি ও মোটরসাইকেল সেবা চালু করলে পেশাজীবীরা কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। উবারের সেবা নেওয়ার বড় কারণ, এখানে ভাড়া গাড়িতে আমেজ পাওয়া যায় ব্যক্তিগত গাড়ির। আর যানজট এড়িয়ে, অলিগলি দিয়ে যাত্রীকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন পাঠাওয়ের চালকরা।

উবারের ভাড়া উপমহাদেশের অন্যান্য নগরীর চেয়ে বেশি হলেও প্রচলিত ট্যাক্সিসেবার চেয়ে এটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী। এসব গাড়ির চালকরাও প্রশিক্ষিত আর ভদ্র। এখন ভাড়া কমানোর ঘোষণায় উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চালক ও যাত্রীর কাছ থেকে সাড়া পেয়েছে সংস্থাটি। ভালো সেবা পেলে ভাড়া বেশি হলেও যাত্রীরা আগ্রহী হবেন, এটিই স্বাভাবিক। তবু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভাড়া যাতে যৌক্তিক হয়, সেটি গুরুত্বসহ বিবেচনা করতে হবে। সরকারও নীতিমালা প্রণয়ন করে এ সেবাকে জনবান্ধব করতে পারে। উৎসাহিত করতে পারে স্থানীয়ভাবে গৃহীত উদ্যোগকেও। জ্বলন্ত প্রয়োজন মেটাতেই কিন্তু বেরিয়ে এসেছে এমন উদ্যোগ। এর ইতিবাচক দিক হলো, এদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নিয়মমাফিক সার্ভিস দিতে বাধ্য হতে পারে প্রচলিত সিএনজিচালিত স্কুটারচালক ও এর মালিকরা। যানজট কবলিত নগরবাসী এর সুফল কিছুটা হলেও পাবেন।