সুশিক্ষা

যৌন হয়রানি বন্ধ ও সচেতনতা বাড়াতে ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’

ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বিভিন্ন স্বেচ্ছসেবামূলক কাজ ছাড়াও যৌন হয়রানি বন্ধ ও সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে সংগঠনটি। যৌন হয়রানি বন্ধে কখনও বিদ্যালয়ে, আবার কখনও পথচারী, পরিবহনের চালক, হেলপার ও যাত্রীদের সচেতন করতে বিভিন্ন স্টিকার ও কর্মশালার আয়োজন করছে।
এসব কর্মশালায় যৌন হয়রানিবিষয়ক সচেতনতা তৈরি ও নির্যাতিতদের নিয়ে কাউন্সেলিং করা, নিপীড়িতদের আইনি সহায়তা দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠা করা, আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ, বাল্যবিয়ে ও ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়াচ্ছে সংগঠনটি।
জনসচেতনতার লক্ষ্যে যাত্রী, চালক, হেলপার ও পথচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন সংগঠনটির কর্মীরা। শিশু নিপীড়নের হার নির্ণয় ও পরিবহন ব্যবস্থা কতটা নারীবান্ধব, সে বিষয়ে জরিপ পরিচালনা করেন তারা। তাদের জরিপে উঠে এসেছে, নারীরাই মূলত পরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।
শুধু তা-ই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা, রেলগেটসহ বেশ কয়েকটি স্থান, বাস, সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনাসহ প্রায় সব পরিবহনে বিভিন্ন স্টিকার সেঁটে দেন তারা। এসব স্টিকারে ‘যৌন হয়রানিকে না বলুন’, ‘আইনি সহায়তার জন্য ১০৯ নম্বরে কল করুন’, ‘গা-ঘেঁষে দাড়াবেন না’ প্রভৃতি স্লোগান উল্লেখ করা হয়। রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন স্থানে প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালান সংগঠনটির কর্মীরা।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাহানা আক্তার বলেন, অন্ধকারে যৌন হয়রানি তো চলছেই। আজকাল জনসম্মুখেও হয়রানি করা হচ্ছে নারীদের। গা-ঘেঁষে দাঁড়ানো, একটু ভিড় হলেই ইচ্ছা করে গায়ে হাত দেওয়া, ধাক্কা দেওয়া ও নোংরা কথার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের এ উদ্যোগের ফলে পাবলিক স্থানে স্টিকার দেখে লজ্জায় অন্তত এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে উত্ত্যক্তকারীরা, এতটুকু আশা তো করাই যায়।
‘পথের সাথি’ নামের বাসের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সবার বাড়িতে মা-বোন আছে। সবাই নিরাপদে থাকতে চায়। তাই এ কর্মীরা যে কাজ করছে, তা ভালো। আমার মনে হয়, এ লেখা দেখে মহিলাদের গায়ে হাত দিতে লজ্জা পাবে।’
‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’ সংগঠনের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নওরীন পল্লবী বলেন, ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়। বিভিন্ন পরিবহনে আমাদের লাগানো এ স্টিকারগুলো সাধারণ যাত্রী, পরিবহন কর্তৃপক্ষ, এমনকি যৌন হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য একটি বার্তা বহন করবে। একজন ভুক্তভোগী যখন দেখবে, তার সমস্যার ব্যাপারে অনেকে আলোচনা করছে ও সজাগ আছে, তখন সেও প্রতিবাদ করবে। পাশাপাশি যারা এসব অপকর্ম বা নোংরা কর্মকাণ্ডগুলো ঘটায়, তারা ভীত হবে। পরিবহন কর্তৃপক্ষও এসব ব্যাপারে সজাগ থাকবে।
প্রসঙ্গত, ‘নীরবতা ভেঙে আওয়াজ তুলি, সুরক্ষিত শৈশব নিশ্চিত করি’ স্লোগানে এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর পর থেকেই বিভিন্ন কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছে।

আকরাম হোসাইন

 

সর্বশেষ..