সারা বাংলা

রংপুরে তাপপ্রবাহে ডায়রিয়া ও শ্বাস প্রশ্বাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব

প্রতিনিধি, রংপুর: রংপুরে কয়েকদিন ধরে চলছে তাপপ্রবাহ। সকালে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ে তাপপ্রবাহ। ফলে শিশুসহ সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় বাড়তে শুরু করছে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন সরবরাহসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমের কারণে শিশুরা ডায়রিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম জানান, তার তিন বছরের মেয়ে আনিকা কয়েকদিন থেকে জ্বর আর বমির জন্য মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছে। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে বলছেন, আনিকার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা করায় এখন সে অনেকটা সুস্থ।
রমেক হাসপাতাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপও বাড়ছে। তাই এ সময় শিশুদের প্রতি একটু বাড়তি নজর রাখতে হবে। গরমের সময় শিশুদের নিরাপদ রাখতে মায়েদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি ফ্রিজে সংরক্ষণ করা খাবার ও দূষিত পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর গরমে শিশুরা অতিরিক্ত ঘামলে তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিতে হবে। তাহলে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিকাশ মজুমদার জানান, হঠাৎ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুরা জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আরেকটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেটি হলো ডেঙ্গু জ্বর। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের দেশে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে আর এ সময় ডেঙ্গু মশার প্রভাব বেড়ে যায়। এ সময় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, প্রচণ্ড গরমে শিশুদের বারবার তরল খাবার খাওয়াতে হবে। পর্যাপ্ত আলো বাতাস পায় এমন ঘরে রাখতে হবে। মায়ের বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। গরমে শিশুদের চিপস, চকোলেট, জুস জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। যে খাবার খেলে বারবার পানির পিপাসা লাগে এ ধরনের খাবার যেন না খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। গরমে শিশুদের প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। এছাড়া শরীর ঘেমে গেলে তা মুছে দিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সিভিল সার্জন আবু মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড গরমে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা যেহেতু মাঠ পর্যায়ে কাজ করি সে জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এজন্য মাঠ কর্মীদের কোনো এলাকার মানুষ যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কী কারণে ডায়রিয়া হচ্ছে তার কারণসহ স্বাস্থ্য সচেতনামূলক প্রচারণার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ..