রংপুর কৃষি অঞ্চলে বোরোর বাম্পার ফলন

জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত, লালমনিরহাট: রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর বন্যার কারণে একটু দেরি করে ধান পাকলেও এবার প্রায় ৮৫ শতাংশ জমির ধান কর্তন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহেই বাকি ধান কর্তন শেষ হবে।
রংপুর কৃষি অঞ্চল অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ লাখ দুই হাজার ৫২৯ হেক্টর জমি। এর মধ্যে রংপুরে এক লাখ ৩৩ হাজার ৪০ হেক্টর, গাইবান্ধায় এক লাখ ৯ হাজার ৬১২ হেক্টর, নীলফামারীতে ৮২ হাজার ১১০ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৫০ হাজার ৮৫০ হেক্টর ও কুড়িগ্রামে এক লাখ ১০ হাজার ৫০২ হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে। যার গড় ফলনে চালের উৎপাদন হবে প্রায় ২০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন। এমনকি দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকার নীলফামারী সদর, জলঢাকা, ডিমলা, সৈয়দপুর, গঙ্গাচড়া উপজেলার বোরো ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে সম্প্রতি নীলফামারী ও লালমনিরহাটে কালবৈশাখী এবং শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির বোরো বিনষ্ট হয়। এতে কিছু কৃষক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খাদ্য উৎপাদনে জাতীয়ভাবে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় এবার ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-২৯ ও ব্রি ধান-৫১ সহ বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। প্রথমদিকে কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি; অপরদিকে বেশ কিছু ধানক্ষেতে নেকব্লাস্ট আর বিএলবি রোগের কারণে কৃষক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে বোরো আবাদ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ধান ঘরে ওঠায় স্বস্তি মিলেছে তাদের। এখন মাঠে মাঠে ধান কাটা আর মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। ফলন ভালো হওয়ায় তাদের মুখে ফুটেছে হাসি।
কৃষকরা জানান, ধানের ফলন যেমন হয়েছে, যদি ন্যায্য দাম পাওয়া যায়, তাহলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ শাহ্ আলম জানান, বোরো ধান সেচনির্ভর। মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর বোরো আবাদে পানি সংকট হয়নি। তাই ফলনও ভালো হয়েছে। তবে যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি, সেখানকার কৃষক বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচ পাম্পে বোরো ধান আবাদ করেছেন, তাদেরও এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।